© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নির্বাচনে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৭০: আইজিপি

শেয়ার করুন:
নির্বাচনে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৭০: আইজিপি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:০০ এএম | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ আট হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া দেশব্যাপী ১৬ হাজার কেন্দ্র মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ। আর প্রায় ১৬ হাজার কেন্দ্রকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উচ্চ ও মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ২৪ হাজার কেন্দ্র বডি-ওর্ন ক্যামেরার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

আইজিপি বলেন, প্রথম স্তরে দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯ ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। দ্বিতীয় স্তরে কেন্দ্রের বাইরে ভ্রাম্যমাণ ভিত্তিতে টহল ও তদারকির জন্য পুলিশের মোবাইল টিম থাকবে। তৃতীয় স্তরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন স্থানে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, নির্বাচনি নিরাপত্তায় এক লাখ ৫৭ হাজার ৮০৫ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে নয় হাজার ৩৯১ জন ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্সের দায়িত্ব পালন করবেন। বাকিরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ইউনিটে কাজ করবেন। এ ছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত সহায়তার জন্য আরও ২৯ হাজার ৭৯৮ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা বলয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। নির্বাচন কমিশনের আওতাভুক্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে। এ ছাড়া প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী পুলিশ সুপারেরা ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার ও পর্যবেক্ষণ করবেন।

বাহারুল আলম বলেন, সব মিলিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় পুলিশের মোট এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ সদস্যকে মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনের নিরাপত্তা কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি ও আনসারসহ অন্যান্য বাহিনীও যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে আনসার বাহিনীর সদস্যই সবচেয়ে বেশি। তাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ। এসব বাহিনী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের মাধ্যমে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

আইজিপি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা, অংশীজনদের পরামর্শ, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা বিবেচনায় নিয়ে এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

নির্বাচন পূর্ববর্তী সহিংসতা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে পাঁচজন নিহত ও ৬০৩ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমাতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্র জমাদানের বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, এ পর্যন্ত ২৭ হাজার নয়টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র থানায় জমা হয়েছে। লুট হওয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি অস্ত্রের সংখ্যা এক হাজার ৩৩০।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা যেকোনও অবৈধ অস্ত্রই হুমকি। বিভিন্ন পথ দিয়ে যেসব অবৈধ অস্ত্র দেশে আনা হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে।

আইজিপি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন আয়োজনের উদাহরণ সৃষ্টি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। অতীতে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির যে হুমকি ছিল, তা কমে এসেছে। এ নির্বাচন যেন ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় নির্বাচন হিসেবে মানুষ মনে রাখে, সে জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইজিপি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে পুনঃপ্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তবে ১৫ বছরের গড়ে ওঠা অভ্যাস এক বছরে বদলানো সম্ভব নয়। প্রতিটি ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মধ্যে ইউনেস্কো প্রস্তাবিত সেশনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া নির্বাচন সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ইউএনওডিসি বেশ কিছু সেশন করেছে, যেখানে পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনা ও সাংবাদিকদের কাজ সহজ করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

আইজিপি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণা ঘিরে আমাদের মূল উদ্বেগ ছিল। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য প্রচারণায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও বোমা হামলার পরিকল্পনা হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা না ঘটায় আমরা স্বস্তি বোধ করছি। পুলিশের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি থাকলেও নির্বাচন ঘিরে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।

ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন