মাত্র ৩৬ বছরেই অবসাদের শিকার! কী ভাবে ঘুরে দাঁড়ান তারকা কৌতুকশিল্পী কপিল শর্মা?
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৫ পিএম | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা গভীর ক্লান্তি, সাফল্যের ঝলকানির ভেতরেও একাকিত্ব— জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী কপিল শর্মার জীবন যেন ঠিক তেমনই এক দ্বৈত বাস্তবতার গল্প। দর্শকের কাছে যিনি সব সময় প্রাণখোলা হাসির প্রতীক, তিনিই মাত্র ছত্রিশ বছর বয়সে ডুবে গিয়েছিলেন অবসাদের অন্ধকারে। সেই সময় শিল্পমহলের একাংশ পর্যন্ত বলে বসেছিল, তার দিন নাকি শেষ। অথচ সেখান থেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার পথ খুঁজে নেন তিনি।
কপিলের শুরুর স্বপ্ন ছিল গায়ক হওয়ার। পরে অভিনেতা হওয়ার চেষ্টাও করেন। কিন্তু ভাগ্যের মোড়ে হঠাৎই কৌতুকের জগতে পা রাখা আর সেখানেই বদলে যায় জীবন। প্রতিযোগিতায় জয়, নিজস্ব অনুষ্ঠান, জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠা সবই এসেছিল দ্রুত। তবে সেই সাফল্যের সঙ্গেই জড়িয়ে যায় বিতর্ক, নেশার অভ্যাস এবং মানসিক অস্থিরতা। কাজ থমকে যায়, চারদিক থেকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঠিক সেই সময়েই জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে। বিয়ে, পরিবার আর নতুন করে অনুষ্ঠান শুরু ধীরে ধীরে তিনি ফিরিয়ে আনেন নিজের ছন্দ। শত শত পর্ব পেরিয়ে আবারও দর্শকের হাসির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন।
তার ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত আসে বাবার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। পাঞ্জাব পুলিশের কর্মরত সেই মানুষটি দীর্ঘ রোগভোগের পরে চলে যান, আর সেই শূন্যতা আজও বয়ে বেড়ান কপিল। একটি প্রতিযোগিতায় জয়লাভের পর পুরস্কারের অর্থ হাতে নিয়ে বাবার কথা ভেবে কান্নায় ভেঙে পড়ার স্মৃতি এখনও তাজা তার মনে। নিজের অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পরে রাতের নীরবতায় অন্যের বাড়ি থেকে ভেসে আসা হাসির শব্দ শুনে বাবার অনুপস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠত এমন স্বীকারোক্তিও করেছেন তিনি।

এখন নিয়মিত নতুন মাধ্যমে অনুষ্ঠান করছেন, দর্শকসংখ্যাও কম নয়। জীবনের ওঠাপড়ার দিকে ফিরে তাকিয়ে কপিলের উপলব্ধি, অনিশ্চয়তাই জীবনের একমাত্র নিশ্চয়তা। সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করে গেলে সময়ই একদিন সব ঠিক করে দেয়। তার জীবনকাহিনি নিয়ে ছবি তৈরির গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে শিল্পমহলে, যদিও তিনি নিজেই মনে করেন, এখনও তিনি জীবনকে নতুন করে বুঝতে শিখছেন।
হাসির মানুষটির এই পথচলা তাই শুধু বিনোদনের নয়, লড়াই আর ফিরে আসার এক অনুপ্রেরণার গল্প।
পিআর/টিকে