ফজর পড়েই কেন্দ্রে ভোটাররা, কড়া নিরাপত্তা
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৯ এএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দীর্ঘ ১৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচন। বাংলাদেশে এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে ভোট দিতে ফজর পড়েই ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন। যদিও নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভোটাররা কেন্দে প্রবেশ করতে পারছেন না।
এদিকে পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে কাগজপত্র যাচাইসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি কেন্দ্রের সামনে প্রার্থীদের অস্থায়ী বুথ থেকে ভোটার স্লিপ বিতরণ করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের ভিড় দেখা যায়। অনেক কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ করছেন পোলিং এজেন্টরা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে বৈধ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন।
অন্যদিকে কেন্দ্রের সামনে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে অস্থায়ী বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এসব বুথ থেকে ভোটারদের ভোটার নম্বরসহ স্লিপ সরবরাহ করা হচ্ছে।
পোলিং এজেন্টরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন। এদিকে ভোটকেন্দ্রের বাইরে আগে থেকেই উৎসবমুখর জনতা ও ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। অনেকেই আগেভাগে এসে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।
ভোটকেন্দ্রের ভেতরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মগবাজার বিটিসিএল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা যায়, ফজরের নামাজ শেষে বেশ কয়েকজন ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তারা আগেভাগেই কেন্দ্রে এসেছেন।
মোহাম্মদ ফারুক নামের এক ভোটার বলেন, ‘অনেক বছর পর ভালো পরিবেশে ভোট হচ্ছে। তাই ফজরের নামাজ পড়েই চলে এসেছি। ভোট শুরুর আগ পর্যন্ত চা-নাস্তা খেয়ে সময় কাটাব, তারপর ভোট দিয়ে যাব।’
তোফাজ্জল হোসেন নামে অপর একজন ভোটার বলেন, ‘নামাজ পড়ে আমি ভোটকেন্দ্রে আসছি। শুরুতেই একটু পরিস্থিতি দেখার জন্য এসেছিলাম এখন ভোটটা দিয়ে চলে যাব। সকালে শুরুতে পরিস্থিতি ভালোই মনে হচ্ছে। বয়স হয়েছে যদি কোনো ঝামেলা হয় আমি সকালেই ভোটটা দিয়ে যাচ্ছি আমার সঙ্গে আরো কয়েকজন সহকর্মী রয়েছেন। সবাই একই এলাকায় বসবাস করি।’
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সারাদেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যার পর পর্যায়ক্রমে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
এদিকে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী কার্যক্রম চলায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরআই/টিকে