জামায়াতের জাল ভোট দেওয়ার অপচেষ্টা ব্যাহত হয়েছে : নবী উল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত
০১:১৩ পিএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভোটের আগের দিন রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাল ভোট দেওয়ার অপচেষ্টা ব্যাহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ।
তিনি বলেন, যদি স্বাভাবিক নির্বাচন সারাদিন চলে ইনশাল্লাহ ২ লক্ষ ভোটে আমি পাস করব।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী বালক-বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেয়া শেষে তিনি এ কথা বলেন।
নবী উল্লাহ বলেন, ভোটারদের অবস্থা আপাতত স্বাভাবিক। গত রাতে জামায়াতে ইসলামীর যে একটা পরিকল্পনা ছিল, গুপ্তবাহিনী তাদের জাল ভোটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার অপচেষ্টা ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসন ব্যাহত করে দিয়েছে এবং আমাদের জনগণের প্রতিরোধের মুখে বিভিন্ন কয়েকটা কেন্দ্রের মধ্যে তারা জাল-জালিয়াতি ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, প্রবেশ করেছিল, সেটা ব্যাহত হয়েছে।
তিনি বলেন, এই আসনের ১৫০টি কেন্দ্রে আমি যাব। অধিকাংশ কেন্দ্রে যাওয়ার পর আমি বুঝতে পারব যে স্বাভাবিক ভোট হবে কি না বা জাল-জালিয়াতি ভোট হবে কি না- এটা ১২টার পর বুঝা যাবে। তবে আমাদের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত সক্রিয় যাতে জাল-জালিয়াতি বা ভোট চুরি না হয় এবং কেন্দ্র দখল যাতে না হয়। আমরা চাই একটা স্বাভাবিক নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। এটা আমরা সবসময় চেয়ে আসছি এবং স্বাভাবিক নির্বাচন, নিরপেক্ষ নির্বাচনই আমরা চাই।
জয়ের বিষয়ে আপনি কতটা আশাবাদী- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের সেই দুঃসময়ের নির্বাচনে আমি প্রার্থী হয়েছিলাম। সেই ভোটারবিহীন নির্বাচনে আমি ২ ঘণ্টায় ৭০ হাজার ভোট পেয়েছিলাম। সারা বাংলাদেশে আমি ৩ নম্বর হয়েছিলাম বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে। এটা যদি স্বাভাবিক নির্বাচন সারাদিন চলে, তো ইনশাল্লাহ ২ লক্ষ ভোটে আমি পাস করব।
অভিযোগ আপনার কাছে আসছে কি না এখন পর্যন্ত-জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ রাতে ছিল। বিভিন্ন কেন্দ্রে জামায়াত ইসলামীর কর্মীরা এবং মহিলারা জাল-জালিয়াতি ভোট দেওয়ার জন্য অপচেষ্টা চালায়। এবং প্রশাসন এবং আমাদের জনগণের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়। তো এখন বেলা ১২টা বাজলে বুঝা যাবে যে জাল-জালিয়াতি ভোট হচ্ছে কি না বা ডিজিটাল কায়দায় কোনো চুরি করার কৌশল করছে কি না- এটা ১২টার পর বুঝা যাবে। এখন আমরা বুঝতে পারি নাই, তবে কেন্দ্রের অবস্থা স্বাভাবিক আছে। সারা দেশে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-৫ আসনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২টি ওয়ার্ডে মোট ১৫০টি কেন্দ্রের ৭৮১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা, কদমতলী (আংশিক) থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ সংসদীয় আসন। এ আসনে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ড।
ঢাকা-৫ আসনে মোট প্রার্থী ১১ জন। বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ নবী (ধানের শীষ প্রতীক), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর হাজী মো. ইবরাহীম (হাতপাখা প্রতীক)। মূলত এ তিন প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
ঢাকা-৫ আসনে মোট প্রার্থী ১১ জন। এরমধ্যে বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ (ধানের শীষ প্রতীক), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ- এর হাজী মো. ইবরাহীম (হাতপাখা প্রতীক)।
এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা (কাস্তে প্রতীক), গণঅধিকার পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ট্রাক প্রতীক), জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর (লাঙ্গল প্রতীক), লেবার পার্টির মো. গোলাম আজম (আনারস প্রতীক), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. তাইফুর রহমান রাহী (ছড়ি প্রতীক), সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) শাহিনুর আক্তার সুমি (কাচি প্রতীক), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মো. হুমায়ূন কবির (ছাতা প্রতীক) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সাইফুল আলম (ডাব প্রতীক)।
কেএন/টিকে