ভোটের দিনেও আলোচনায় ঢাকা-৮ / মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৪৩ পিএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ঢাকা-৮ আসন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচারণার শুরু থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও কথার লড়াইয়ের মাধ্যমে তারা আলোচনার তুঙ্গে ছিলেন। ভোটের দিনেও সেই উত্তেজনার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসন। এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন একজন। প্রচারণার শুরু থেকেই মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বাগযুদ্ধে নির্বাচনি মাঠ সরগরম থাকায় ভোটের দিনেও এই আসনের ওপর বিশেষ নজর ছিল গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার।
ভোটের দিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকা-৮ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অনেকটা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। সকালে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। দুপুরে কিছু কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারিতেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রতিটি কেন্দ্রে ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট দেখা গেলেও অন্যান্য প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। তবে প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের সমর্থকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি ছাড়া এই আসনের ভোটারদের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
বেলা পৌনে ১২টার দিকে শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, এই কেন্দ্রে তার প্রতীক 'শাপলা কলি'র পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দিতে তিন ঘণ্টা বিলম্ব করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রের ভেতরে কী হয়েছে, তা সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি।
এ সময় লাঙ্গল, ধান ও আওয়ামী লীগ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে মন্তব্য করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, 'আমরা শুনতে পাচ্ছি লাঙ্গল আর ধান মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে৷ লাঙ্গল এখন ধানের পক্ষে কাজ করে৷ লাঙ্গলের পেছনে আছে আওয়ামী লীগ৷ আওয়ামী লীগের পেছনে আছে ভারত৷ বুঝছেন তো খেলা? আমরা সব জায়গায় গিয়ে খোঁজ পাচ্ছি লাঙ্গল-ধান-আওয়ামী লীগ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে৷' এ সময় তিনি নিজের প্রতীক শাপলা কলির ভূমিধস জয় হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর কিছুক্ষণ পরেই একই কেন্দ্রে (মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ) ভোট দিতে আসেন মির্জা আব্বাস। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি তো ওদের মতামতের ওপর হাত দিতে পারব না। ওদের পোলিং এজেন্টই নাই। এখনো অনেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টই দিতে পারেনি তারা। আর যদি কেন্দ্রে ঢুকতে না পারে, এটা তো আমার দোষ নয়।'
এ সময় জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করলেও নির্বাচনে 'ইঞ্জিনিয়ারিং' হলে ফলাফল মেনে নেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন মির্জা আব্বাস।
এদিকে মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে শাহজাহানপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাকে ঘিরে ভোটকেন্দ্রে 'ভুয়া ভুয়া' স্লোগান দেয় একদল লোক। পরে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে নিরাপদে কেন্দ্র থেকে সরিয়ে আনে।
এই ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মির্জা আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে ভোট ডাকাতি হচ্ছে। তিনি লেখেন, 'আমরা কেন্দ্রে প্রবেশ করার পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রশাসনের উপস্থিতিতেই আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।'
এসএন