© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গোপালগঞ্জে শেখ হাসিনার আসনে জয় পেয়েছে বিএনপির জিলানী

শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জে শেখ হাসিনার আসনে জয় পেয়েছে বিএনপির জিলানী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৪৬ পিএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দীর্ঘ তিন দশক পর আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনেই বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার সবকটি আসনেই বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থীরা।

এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে বিএনপির এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর একবার জয়ী হলেও, এবারের ফলাফলকে জেলার ইতিহাসে বিএনপির সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান আনুষ্ঠানিকভাবে এই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের সংসদীয় আসন হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে এবার বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জিলানী। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিন্দু মহাজোটের নেতা গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট। শেখ হাসিনার পৈত্রিক নিবাস ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে বিএনপির এই বিজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

গোপালগঞ্জ-১ আসনেও পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। সেখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. কাবির মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট।

এছাড়া গোপালগঞ্জ-২ আসনে জয়ের হাসি হেসেছেন বিএনপির কে এম বাবর। তিনি পেয়েছেন ৪০ হাজার ৪৮ ভোট। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপিরই বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু, যিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এই আসনগুলোতে মূলত বিএনপি ও জোটের শরিকদের মধ্যেই মূল লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল।

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। ভোটারদের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় নেতারা। 

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ছিল শান্তিপূর্ণ এবং কোনো ধরনের বড় গোলযোগ ছাড়াই ফলাফল সম্পন্ন হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থীরা ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামী দিনে এলাকার উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন।

এসএস/টিএ

মন্তব্য করুন