হারলেও ‘সততার রাজনীতি’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা তাসনিম জারার
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১১ পিএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নির্বাচনে পরাজিত হলেও ‘সততা ও সম্মানের রাজনীতি’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। আজ শুক্রবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম হয়ে গন্তব্যরেখা পার হতে পারিনি, কিন্তু অনেকেই যেটিকে অসম্ভব বলেছিলেন, আমরা সেটিই সম্ভব করেছি।’
পোস্টে তাসনিম জারা জানান, অল্প সময়ের প্রচারণায় ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এটি ছিল এমন একটি প্রচারাভিযান, যেখানে ‘উচ্চস্বরে মাইকিং, পেশিশক্তির প্রদর্শন বা বিদ্বেষের ভাষা ছিল না।’
তিনি এটিকে ‘সম্মান ও সততার একটি মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ের জন্য বিএনপিকে অভিনন্দন জানান তাসনিম জারা। একই সঙ্গে ঢাকা-৯ আসনের বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবকে শুভেচ্ছা জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গত রাতে হাবিবুর রশীদ হাবিবকে ফোন করে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন বলেও পোস্টে লিখেছেন তাসনিম জারা। জনগণের কল্যাণে নেওয়া উদ্যোগে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেন এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তে ‘সতর্ক ও নীতিনিষ্ঠ বিরোধী কণ্ঠ’ হিসেবে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তাসনিম জারা বলেন, এবারের প্রচারণায় নারীদের উপস্থিতি ছিল নজিরবিহীন। নীতিনির্ধারণী আলোচনায় নারীর উপস্থিতি আলোচনার ধরন বদলে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের প্রতিটি নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের লড়াই হিসেবে এই নির্বাচনকে দেখেন তাসনিম জারা। কিশোরীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘ক্ষমতার করিডরে তোমাদেরও জায়গা আছে।’
স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, তাঁরা নাগরিক দায়বদ্ধতার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। হতাশ না হয়ে সংগঠিত ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচন শেষে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, সেটিও সরাসরি নাকচ করেছেন তাসনিম জারা। তিনি লেখেন, তাঁর শিকড় ও কাজ বাংলাদেশেই, তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। একটি নির্বাচনের জন্য নয়, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলে দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনী অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও বলেন এই প্রার্থী। তাঁর মতে, ‘পরিষ্কার’ প্রচারণার পাশাপাশি ‘শক্তিশালী’ সংগঠন গড়ে তোলাও জরুরি। ভোটের দিন পোলিং এজেন্টদের সাহস ও কেন্দ্রে উপস্থিতিকেই ভোট সুরক্ষার প্রধান ঢাল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে ভয়ভীতি মোকাবিলায় আরও দৃঢ় সংগঠন গড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
পোস্টে জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তাসনিম জারা বলেন, সেই আন্দোলনের আত্মত্যাগ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি সম্ভব হতো না। অধ্যাপক ইউনূস ও তাঁর দল এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। জটিল প্রেক্ষাপটে একটি বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনকে তিনি ‘গণতান্ত্রিক জাতি হিসেবে টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য’ বলে উল্লেখ করেন।
পোস্টের শেষে ৪৪ হাজার ভোটকে ‘দৃঢ় ভিত্তি’ আখ্যা দিয়ে তাসনিম জারা লেখেন, ‘আমরা দেখিয়েছি, সততার রাজনীতির জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। আমরা পুরোনো ছাঁচ ভেঙেছি।’
ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সেরা সময় এখনো সামনে।’
এসএস/টিএ