© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাশিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ পুরোপুরি ব্লক, ‘দেশি’ অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ

শেয়ার করুন:
রাশিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ পুরোপুরি ব্লক, ‘দেশি’ অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪৩ পিএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রাশিয়ায় মেটার মালিকানাধীন মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ পুরোপুরি ব্লক করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় আইন না মানার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়ার আইন মানতে মেটার অনাগ্রহের কারণেই অ্যাপটি বন্ধ করা হয়েছে। তিনি নাগরিকদের রাষ্ট্র-সমর্থিত ‘জাতীয় মেসেঞ্জার’ ম্যাক্স ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

সরকারের দাবি, ম্যাক্সে বিভিন্ন সরকারি সেবা যুক্ত করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ম্যাক্স আসলে নজরদারির একটি মাধ্যম হতে পারে। কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রাশিয়া আগে থেকেই মেটা-কে ‘উগ্রবাদী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক কয়েক মাস ধরে হোয়াটসঅ্যাপের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছিল। সরকার বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তারা নিজস্ব ও নিয়ন্ত্রিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় আইন মানতে হবে, না হলে দেশ ছাড়তে হবে।

হোয়াটসঅ্যাপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাশিয়া সরকার নাগরিকদের একটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অ্যাপ ব্যবহার করতে বাধ্য করতে তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্লক করেছে। এতে ১০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী নিরাপদ যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।

এদিকে হোয়াটসঅ্যাপের কিছু ডোমেইন রাশিয়ার জাতীয় ডোমেইন রেজিস্টার থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে দেশটির ভেতরে অনেক ডিভাইস অ্যাপটির সার্ভারে সংযোগ করতে পারছে না। এখন ভিপিএন ব্যবহার ছাড়া অ্যাপটি চালানো যাচ্ছে না। যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসকোমনাদজর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।

এর আগে রাশিয়া ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও স্ন্যাপচ্যাট-এর মতো প্ল্যাটফর্মেও নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এরপর গত আগস্টে রোসকোমনাদজোর হোয়াটসঅ্যাপে ফোন কল সুবিধা বন্ধ করে দেয়।

তাদের অভিযোগ ছিল, প্ল্যাটফর্মটি জালিয়াতি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছে না। পরে আইন লঙ্ঘন ও ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের’ অভিযোগ তুলে ধাপে ধাপে কড়াকড়ির কথা জানানো হয়।

ডিসেম্বর থেকেই অনেক ব্যবহারকারী ভিপিএন ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারছিলেন না। ফলে অনেকে বিকল্প হিসেবে টেলিগ্রাম-এ ঝুঁকেছেন। তবে টেলিগ্রামও রাশিয়ায় নিয়ন্ত্রকদের নজরদারির মধ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন