১৬ তারিখ শপথ, ১৮ তারিখেই নতুন সরকার: কার হাতে কোন মন্ত্রণালয়?
ছবি: সংগৃহীত
১২:২৬ এএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
শীঘ্রই সরকার গঠন করবে বিএনপি। ১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন প্রধান বিচারপতি। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার হাল ধরবেন তারেক রহমান। রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনে এবার অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী মুখকে সামনে আনার পরিকল্পনা করছে দলটি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যেমন—স্বরাষ্ট্র, আইন, অর্থ, পররাষ্ট্র ও সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন এমন সম্ভাব্য কয়েকজনের অনেকটা নিশ্চিত নাম পাওয়া গেছে।
এছাড়া মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতাদের নাম অবধারিতভাবেই আলোচনায় রয়েছে। সাবেক মন্ত্রী ও অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানদের মধ্যে যারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ মন্ত্রিসভায় ডাক পেতে পারেন। বিশেষ করে এবার বিজয়ী উচ্চশিক্ষিত ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী ৭ জনের মধ্যে কয়েকজন আলোচনায়।
বিএনপি'র দলীয় উচ্চ পর্যায়ের সূত্র বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে ডাক পেতে যাচ্ছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। এর আগে তিনি বিএনপি'র আন্তর্জাতিক সম্পাদকীয় পদে ছিলেন। দলটির বৈশ্বিক সম্পর্কে উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী পদে ড. রেজা কিবরিয়া। রেজা কিবরিয়া একজন বিশ্বমানের অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারক। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এ একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০০১-২০০৪ মেয়াদে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য হলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মির্জা ফখরুল। তিনি বিএনপির ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব এবং নীতিনির্ধারণে তার ভূমিকা ছিল। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ে ডাক পেতে যাচ্ছেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল। আইনি ব্যাখ্যা ও সংবিধান বিশ্লেষণে তার অগাধ পাণ্ডিত্য রয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ডাক পেতে পারেন ড. এম এ মুহিত। তিনি হাজার হাজার মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার এক বিশাল কর্মযজ্ঞের নায়ক। ৪টি দেশে তিনি সমাজসেবামূলক কাজ এবং বাংলাদেশে ১১টি চক্ষু হাসপাতাল ও মা-শিশু হাসপাতাল পরিচালনা করছেন। এছাড়া ২৮টি দেশের ৮০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি বিশাল নেটওয়ার্কের (GLM-CPR) নীতিনির্ধারক হিসেবে তাঁর রয়েছে বিরল প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে তার সমাজসেবামূলক কার্যক্রম বেশ নন্দিত। বিএনপির উচ্চশিক্ষিত পিএইচডিধারী যে সাতজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তার মধ্যে তিনি অন্যতম।
এদের মধ্যে কেবল হুমায়ুন কবির টেকনোক্র্যাট কোটায়। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে টেকনোক্র্যাট কোটায় ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিম আলোচনায়।
এ পর্যন্ত বিএনপির হাইকমান্ড থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মন্ত্রীত্বের জন্য আরো ডাক পেতে যাচ্ছেন নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আন্দালিব রহমান পার্থ , কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির, ইকবাল হাসান টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মাহদী আমিন, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু , সেলিমা রহমান, শামা ওবায়েদ, জহির উদ্দিন স্বপন,আমিনুল ইসলাম (টেকনোক্র্যাট) সালেহ শিবলী (টেকনোক্র্যাট), মাহমুদুর রহমান মান্না (টেকনোক্র্যাট) হাবিবুন নবী খান সোহেল (টেকনোক্র্যাট) , ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, নওশাদ জমির, মীর হেলাল, আসাদুল হাবিব দুলু , মো. শরীফুল আলম।
নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আগামী ১৬ ফ্রেব্রুয়ারি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন তিনি। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল 'সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত' হতে হবে এবং এরপর 'তিন দিনের মধ্যে' নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ হবে।