ভবিষ্যদ্বাণী ছিল আমার-বিএনপি ১৫১ নয়, ২০০ সিট অবশ্যই পাবে: জাহেদ উর রহমান
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫৩ এএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ একটা উদার গণতান্ত্রিক ধারায় থাকবে কি থাকবে না এইরকম কনফিউশন যাদের মধ্যে ছিল, তাদের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত এবং ভোর খুবই রিলিভিং ছিল। কারণ তারা দেখতে পেলেন, বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এমন একটা দলের হাতে যাচ্ছে, যারা এই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে, তারা উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আরো সোজাসাপ্টা যদি বলি, জামায়াতে ইসলামী জিতে যাবে কি না, সরকার গঠন করে ফেলবে কি না—শেষ পর্যন্ত এই ধরনের কনফিউশন কারো মধ্যে ছিল। আমার মধ্যে একদিনের জন্য, এক মুহূর্তের জন্য এই কনফিউশন ছিল না।
আমি অন রেকর্ড আমার এই চ্যানেলে, টিভি চ্যানেলে ক্রমাগত বলেছি, ১৫১ নয়, ২০০ সিট অবশ্যই পাবে। নিজের একটা প্রেডিকশন ফলে যাওয়ার এক ধরনের আনন্দ তো আছেই, এটা বিএনপি জিতে যাওয়ার আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। না-ও হতে পারত।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আপনারা অনেকে খুবই চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন আমাকে প্রেডিকশনের ভিডিওতে যে দু-দিন পর কথা বলবেন। ভুলও হতে পারত। এটাকে এত এমন করে দেখার কিছু নেই। আমি গণক নই যে আমার এটা নিয়ে ব্যবসা আছে।
তাই এটা ভুল হলে আমার ব্যবসার ভীষণ ক্ষতি হয়ে যাবে। তবে রাজনীতির একজন পর্যবেক্ষক আমি, নিজের কাছে সৎ থাকার চেষ্টা করেছি, করি। আর সেটার ভিত্তিতে এটা মনে হয়েছে আমার। আমি তো শুধু একজন অ্যানালিস্ট না, বহুবার বলেছিলাম আমি একজন অ্যাক্টিভিস্ট। আমার সুস্পষ্ট পলিটিক্যাল ইডোওলজি আছে।
আমি একজন লিবারেল ডেমোক্রেট। সুতরাং উদার গণতন্ত্রী মানুষ। আমি চাই বাংলাদেশ এমন কোনো দলের হাতে কখনো যেন না যায়, তথাকথিত সৎ শাসন বা সৎ লোকের শাসন, দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন ইত্যাদির নামে যে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে একটা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাবে। এটা নিয়ে আমার অবস্থানের কোনো দ্বিমত ছিল না এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে প্রচুর ঝড়ঝাপটার মধ্য দিয়ে গেছি। আমি এভাবেও বলার চেষ্টা করেছি যে কেউ আমার ইউটিউবের এই চ্যানেলের ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী সময়ের ভিডিওর গালাগালা দেখবেন, আর ৫ আগস্টের পরের গালাগালা দেখবেন, তখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কিভাবে বলেছি, কি বলেছি, তার প্রতিক্রিয়ায় কতটা গালাগাল পেয়েছি, আর এখন কতটা গালাগাল পাই, এই তুলনাটা যে কেউ করতে পারেন।
তিনি বলেন, যা-ই হোক, নির্বাচনটার সর্বশেষ ফলাফল আমি যেটা ভেবেছি, সেটা হয়েছে, খানিকটা বেশিই হয়েছে। ২১৮ আমি সো ফার লাস্ট যেটা দেখলাম, জামায়াতে ইসলামী ৭৩, জামায়াতে ইসলামী ৭০-এর মতো পেতে পারে। সর্বোচ্চ এরকম একটা প্রেডিকশন আমার ছিল। স্বতন্ত্ররা একটু খারাপ করেছে, সে কারণে জামাতের স্থিতি একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। এটা নিয়ে প্রচুর অ্যানালিসিস আছে, করব। প্রতিটা জায়গায় অ্যানালিসিসের জায়গা আছে। আমি সেটি নিয়ে কথা বলতে চাই। বিএনপির এই যে স্বতন্ত্ররা নিজেরা জিতুক না জিতুক, জামায়াতকে অনেক জায়গায় জিতিয়ে আনতে সাহায্য করেছে। বিএনপির গা-ছাড়া ভাব ছিল—এগুলো নিয়ে বিস্তারিত অ্যানালিসিসের প্রয়োজন আছে।
টিজে/টিএ