‘মধুবালাজি বিরলতম সুন্দরীদের একজন’
ছবি: সংগৃহীত
০২:০৬ পিএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মধুবালার জন্মদিনে স্মৃতির অ্যালবাম খুলে বসলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ কর্মজীবনে বহু কিংবদন্তির সঙ্গে কাজ করলেও আক্ষেপ একটাই জীবনে একবারও কাছ থেকে দেখা হয়নি রূপালি পর্দার অতুলনীয়া সুন্দরী মধুবালাকে। মুম্বাইয়ে প্রথম পা রাখার সময় তাঁর প্রবল ইচ্ছা ছিল এই নায়িকার সঙ্গে অন্তত একটি ছবিতে কাজ করবেন, কিন্তু সে সৌভাগ্য আর জোটেনি। ফলে মধুবালাকে যতটা চিনেছেন, তার বেশির ভাগই গল্পে গল্পে, বিশেষ করে প্রিয় বন্ধু কিশোর কুমার এর মুখে শোনা স্মৃতিচারণে।
বিশ্বজিতের কথায়, ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে মধুবালার সৌন্দর্যের তুলনা মেলা ভার। বম্বের চলচ্চিত্র জগতে তাঁকে ডাকা হতো ‘ভেনাস’ নামে, ছিলেন প্রকৃত অর্থেই বিউটি কুইন। কিশোর কুমারের সঙ্গে তাঁর প্রেম ও বিয়ের কাহিনি যেমন রোম্যান্টিক, তেমনই বেদনাময়। অসুস্থতার কারণে সংসারজীবন দীর্ঘ হয়নি, আর সেই আক্ষেপ সারাজীবন বয়ে বেড়িয়েছেন কিশোর কুমার। শুটিং শেষে স্ত্রীর পাশে কিছুটা সময় কাটিয়ে শূন্য বাড়িতে ফেরা এই নিঃসঙ্গতার গল্প বহুবার শুনেছেন বিশ্বজিৎ, আর সেখানেই মধুবালার জীবনসংগ্রামের আভাস পেয়েছেন তিনি।

মধুবালার ব্যক্তিজীবনের আর এক অধ্যায় জুড়ে আছে দিলীপ কুমার এর নাম, যাঁর আসল নাম ইউসুফ খান। দু’জনের গভীর প্রেম শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায়নি পারিবারিক আপত্তির কারণে। এমনকি একটি ছবিতে একসঙ্গে কাজের চুক্তি হয়েও শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায় সব। আবার কিংবদন্তি ছবি মুঘল-এ-আজম এর শুটিং নিয়েও নানা গল্প শুনেছেন বিশ্বজিৎ পরিচালকের কঠোরতা, সেটের কষ্ট, আর সেই কষ্ট সহ্য করেও পর্দায় অনবদ্য অভিনয়। সব মিলিয়ে তাঁর চোখে মধুবালা শুধু এক সুন্দরী নন, এক বিরল উপস্থিতি যাঁকে সামনে থেকে একবার দেখার ইচ্ছেটুকুই অপূর্ণ থেকে গেছে আজীবন।
পিআর/টিকে