© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মক্কায় নিজস্ব 'হজ ভিলেজ' গড়তে জমি কিনছে ইন্দোনেশিয়া

শেয়ার করুন:
মক্কায় নিজস্ব 'হজ ভিলেজ' গড়তে জমি কিনছে ইন্দোনেশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৫৭ পিএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মক্কায় নিজস্ব ‘হজ ভিলেজ’ গড়তে বড় উদ্যোগ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। পবিত্র নগরীতে নিজস্ব আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলে হজযাত্রীদের খরচ কমানোর লক্ষ্য নিয়েই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাকার্তায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

দেশটির সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ‘দানান্তারা’ (Danantara) মসজিদ আল-হারাম থেকে মাত্র ৬০০ মিটার দূরে একটি নতুন জমি ক্রয়ের পরিকল্পনা করেছে। এই জমিতেই নির্মিত হবে বহুল আলোচিত ‘হজ ভিলেজ’। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ইন্দোনেশীয় হজযাত্রীদের জন্য সুলভ, নিরাপদ ও আধুনিক আবাসন নিশ্চিত করা।
 
জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ‘ইন্দোনেশিয়া ইকোনমিক আউটলুক ২০২৬’ অনুষ্ঠানে দানান্তারার সিইও রোজান রোসলানি প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই হজ ভিলেজে মোট ১৩টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে একসঙ্গে প্রায় ২২ হাজার হজযাত্রী সেখানে অবস্থান করতে পারবেন।
 
নতুন জমিটির বিশেষত্ব হলো এর অবস্থান। এটি কাবা শরিফের খুব কাছাকাছি হওয়ায় হজযাত্রীদের চলাচল সহজ করতে একটি সরাসরি টানেল বা সুড়ঙ্গপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে যাতায়াতের সময় ও কষ্ট দুটোই কমে আসবে।
  
এর আগে ইন্দোনেশিয়া মক্কার থ্যাকের সিটি এলাকায় নভোটেল হোটেলসহ প্রায় ৪ দশমিক ৪ হেক্টর জমি কিনেছিল। সেই এলাকা মসজিদ আল-হারাম থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে। নতুন ৬০০ মিটার দূরের জমিটি মূলত সেই প্রকল্পের সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
 
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হজযাত্রী এই দেশ থেকেই সৌদি আরবে যান। কিন্তু উচ্চ খরচ এবং মানসম্মত আবাসনের সংকট দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। নিজস্ব ভবন নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে হোটেল ভাড়ার ওপর নির্ভরতা কমবে। ফলে হজযাত্রীদের ব্যক্তিগত খরচ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
এই হজ ভিলেজ শুধু থাকার জায়গা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ হজ ইকোসিস্টেম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে কেনাকাটার জন্য শপিং মল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ইন্দোনেশীয় খাবার ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে বিশেষ সুবিধা রাখা হবে। এতে হজযাত্রীরা নিজেদের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেবা পাবেন।
 
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তো জানান, সৌদি আরব সরকার প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি দেশকে মক্কায় জমির ফ্রিহোল্ড মালিকানার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে। সৌদি আরবের পরিবর্তিত আইনের আওতায় ইন্দোনেশিয়াই প্রথম দেশ হিসেবে মক্কায় নিজস্ব ‘হজ ভিলেজ’ স্থাপনের সুযোগ পাচ্ছে।
 
প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে এই হজ ভিলেজ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হবে।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন