© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ময়মনসিংহের নির্বাচিত ১১ প্রার্থী প্রথমবার যাচ্ছেন সংসদে

শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের নির্বাচিত ১১ প্রার্থী প্রথমবার যাচ্ছেন সংসদে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:২৩ পিএম | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিগত সকল নির্বাচনেই ময়মনসিংহে সাবেক বা অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যের আধিপত্য থাকলেও ব্যতিক্রম ঘটেছে এবারের নির্বাচনে। ময়মনসিংহের ১১ আসনে নির্বাচিত প্রার্থীরা প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন জাতীয় সংসদে। তাদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশাও অনেক। তবে মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধসহ এলাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার অঙ্গীকার নির্বাচিত এমপিদের।

১৯৭৩ থেকে ২০২৪ সাল- প্রতিটি নির্বাচনেই ময়মনসিংহের কোনো না কোনো সাবেক বা অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যের আধিপত্য ছিল। তবে ব্যতিক্রম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এবার জেলার ১১টি আসনের নির্বাচিত সব সংসদ সদস্যই নতুন মুখ। যাদের কেউই এর আগে সংসদ সদস্য ছিলেন না।
 
১১ আসনের মধ্যে ৮ টিতেই জয়ী হয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া):
 
এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন সৈয়দ এমরান সালেহ। এখানে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর রুবেল। প্রার্থী হওয়ায় দল তাকে বহিষ্কার করে। বেসরকারি ফলাফলে ১ লাখ ৭ হাজার ২৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হন সালমান ওমর। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩৬ ভোট। জীবনে প্রথম ভোটে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সালমান ওমর।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) :

এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে জীবনে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধানের শীষের প্রার্থী উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৪৪ ভোট।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর):

এ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপি প্রার্থী এম ইকবাল হোসেনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমানের। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ইকবাল হোসেইন ৭৭ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আহাম্মদ তায়েবুর রহমান পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫৩৬ ভোট।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর):

এখানে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দের সঙ্গে মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান এমরুলের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থী ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯১ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮০ ভোট।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা):

এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তিনি ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭৬ ভোট।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া):

এখানে পাঁচজন প্রার্থী অংশ নেন। জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীর বাইরে দুই দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের মধ্যে ছিল জমজমাট ভোটের লড়াই। এখানে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির কামরুল হাসান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’প্রার্থী আখতার সুলতানা। তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন ৫১ হাজার ৯৭০ ভোট পেয়ে তৃতীয় ও ধানের শীষের প্রার্থী মো. আখতারুল আলম ৪৯ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। জীবনে প্রথমবার ভোটে অংশ নিয়ে কামরুল হাসান এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল):

এ আসনে ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান ধানের শীষে প্রতীকে ৯৮ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. আছাদুজ্জামান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮২ হাজার ৯৬২ ভোট পেয়েছেন।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ):

এখানে চারজন প্রার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ‍দুজন ছিলেন সাবেক এমপি। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ১ লাখ ৭ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত জোটের লেবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) আওরঙ্গজেব বেলাল। তিনি পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৭৯১ ভোট।

বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা নিয়ে সাবেক এমপি শাহ নূরুল কবীর পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭৩৪ ভোট এবং জাতীয় পার্টির তিনবারের এমপি ফখরুল ইমাম মাত্র ১ হাজার ৭১৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল):

এ আসেন ছয়জন প্রার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৮৮৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত জোটের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৮৯৮ ভোট। জীবনে প্রথম ভোটেই এমপি হলেন ইয়াসের খান চৌধুরী। তাঁর বাবা ও চাচাও এ আসনে দীর্ঘদিন এমপি ছিলেন।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও):

এ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৩৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪২৪। দাঁড়িপাল্লা নিয়ে জামায়াতের প্রার্থী মো. ইসমাঈল পেয়েছেন ৬৪ হাজার ১৬৯ ভোট। জীবনে প্রথমবার ভোটে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা):

এ আসনে ৫ জন প্রার্থী ভোটে অংশ নেন। এর মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম ছিলেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম। তিনি পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫৯১ ভোট।

বিএনপির প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় পাওয়ায় উচ্ছ্বাসে ভাসছে নেতাকর্মীরা। ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন নবনির্বাচিত এমপিরা। অনেকে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে নেতাকর্মী ও ভোটারদের সাথে করছেন কুশল বিনিময়। সাধারণ মানুষের চাওয়া, সংকট নিরসনসহ ভোটের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতি যেন রক্ষা করেন জনপ্রতিনিধিরা।

আর নির্বাচিতরা জানান, মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধসহ এলাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন তারা। এছাড়া প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও করেন তারা।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, আগামী দিনে অবহেলিত ময়মনসিংহ সদরের উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চাই।

পাশাপাশি আমার নির্বাচনী প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি অঙ্গিকারবদ্ধ।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু, আমরা কোনো প্রতিহিংসা রাজনীতি কাউকে করতে দিবো না। সকল দল মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তাগাছাবাসীর উন্নয়নে কাজ করবো।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিজয়ী সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বলেন, জনগণ আমার প্রতি বিশ্বাস রেখেছে, এটিই আমার বড় পাওয়া। শপথ গ্রহনের পর আমি এলাকার উন্নয়নে সর্বপ্রথম স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কাজ করতে চাই। জেন-জি’র জন্য আমি কিছু করতে চাই। যেহেতু আমি নিজেই একজন টেকনিক্যাল মানুষ, তাই ডাটা অ্যানুটেশন ও লেভেলিং আমি কাজকর্মকে উপজেলাজুড়ে পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চাই। এতে কমপক্ষে ৫ হাজার তরুণকে আয়ের পথ দেখানো যাবে। এজন্য ইতোমধ্যেই আমি চাইনিজ ও ইউরোপীয় গোষ্ঠীর সাথে আলোচনা করেছি। আশা করি এলক্ষ্যে সফল হবো।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে বিজয়ী সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলন বলেন, আমি জনগণের কাছে এমপি হয়ে থাকতে চাই না। আমি তাদের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো। ফুলবাড়িয়ার অবকাঠামো উন্নয়ন, মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধে আমি কাজ করবো। সবাইকে সাথে নিয়েই ঐক্যবদ্ধ ফুলবাড়িয়া গড়ে তুলবো।

এমআই/টিকে 

মন্তব্য করুন