দ. আফ্রিকার কাছে হারের ক্ষোভ খাবারের ওপর ঝেড়েছেন রশিদরা
ছবি: সংগৃহীত
১১:৫৭ পিএম | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে টাই, এরপর সুপার ওভারেও টাই, শেষপর্যন্ত দ্বিতীয় সুপার ওভারে হেরে যাওয়া–যা কার্যত আফগানিস্তানের সুপার ওভারে ওঠার সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছে। গতবার সেমিফাইনাল খেলার পর এবার লড়াকু ক্রিকেট খেলেও গ্রুপ পর্ব থেকে প্রায় বাদ পড়ার ক্ষোভ খাবারের ওপর ঝেড়েছেন আফগানরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তান পরবর্তী ম্যাচ খেলবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। এই ম্যাচ খেলতে এখন দিল্লিতে অবস্থান করছে রশিদ খানের দল। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বারবার ফিরে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের কথা। ডাবল সুপার ওভারের থ্রিলারে হারের শোক কীভাবে ভুললেন আফগানরা?

এমন প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক রশিদ হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমরা আহমেদাবাদে ছিলাম। ম্যানেজারকে বললাম খাবার অর্ডার করতে-পেশাওয়ারি খাবার। ডাল বুখারা, ডাল মাখানি, আর তন্দুরি চিকেন আনতে বলেছিলাম, যেন রাগটা ওগুলোর ওপর ঝাড়তে পারি।’
সেই সমৃদ্ধ, মাখনভরা খাবারের টেবিলে বসেই আফগানিস্তান নিজেদের মনকে প্রবোধ মানিয়েছেন-এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচে যা ঘটেছে, তার জন্য কাউকে দোষারোপ করা যাবে না; বরং নিজেদের অবদানের জন্য গর্বিত হওয়া উচিত।
রাশিদ বলেন, 'কেউ যেন না বলে, সে এটা করেছে বা ওটা করেছে-এতে দলে নেতিবাচকতা আসে। কেউ আলাদা করে হারেনি, আমাদের দল হেরেছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। সুপার ওভারে যাওয়ার জন্য কখনও কোনো খেলোয়াড়কে দোষ দিই না। অধিনায়ক হিসেবে আমি এসব কথা শুনতে চাই না। খেলায় হারার চেয়েও আমাকে বেশি হতাশ করে যখন খেলোয়াড়দের দোষ দেওয়া হয়। আমরা সবাই চেষ্টা করেছি।'
তবে এতে এই নয় যে রাশিদ পরাজয় ভুলে গেছেন। তিনি এটিকে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের সঙ্গে তুলনা করেন।
তার ভাষায়, 'সত্যি বলতে, এটা খুব কঠিন। কয়েকবার ম্যাচটা আমাদের হাতে ছিল, তারপর হঠাৎ ফসকে গেল-এটা খুব হতাশাজনক। মন থেকে সহজে যায় না। ২০২৩ বিশ্বকাপে ওয়াংখেড়েতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা যেমন ভুলতে পারিনি, ২০২৪ বিশ্বকাপে তাদের হারানোর পর ধীরে ধীরে সেটা মাথা থেকে বেরিয়েছিল।'
মুম্বাইয়ের সেই ম্যাচে আফগানিস্তান সেমিফাইনালে ওঠার পথে ছিল। সেই ম্যাচে আগে ব্যাট করে তারা করেছিল ৫ উইকেটে ২৯১ রান এবং ৯১ রানেই অস্টড়েলিয়ার ৭ উইকেট ফেলে চেপে ধরেছিল। কিন্তু গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরি তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয়।
সেই রাতে দল কী করেছিল?
রাশিদ জানান, 'ম্যাচের পর রাতে আমরা সবাই ম্যানেজারের রুমে জড়ো হয়েছিলাম। সবাইকে ডাকা হয়েছিল। ভালো করে ডিনার করেছিলাম, ইতিবাচক কথা বলেছি, একে অপরকে সমর্থন করেছি। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম-এটাই সময় একসঙ্গে থাকার, মাথা উঁচু রাখার। আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের হতাশ না করি, তাহলে বড় কিছু অর্জন করতে পারব। কিন্তু যদি ভেঙে পড়ি, তাহলে এক-দুই বছর পিছিয়ে যাব-যা আমরা চাই না। তাই আমরা শিখি, সামনে এগোই, মাথা উঁচু রাখি এবং চেষ্টা চালিয়ে যাই। ফল পাইনি, কিন্তু চেষ্টাটা ছিল-এটাই সবচেয়ে তৃপ্তির।'
তবে আপাতত আফগানিস্তানকে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেওয়ার সমীকরণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারার পর এখন তাদের সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কানাডার বিপক্ষে জয় পেতেই হবে। পাশাপাশি চাইবে ইউএই যেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে এবং কানাডা যেন নিউজিল্যান্ডকে হারায়। তাতেও শেষ ভরসা থাকবে নেট রান রেটে। অর্থাৎ বড় কোনো অঘটন না ঘটলে ২০২৪ সালের সেমিফাইনালিস্টরা এবার পরের রাউন্ডে উঠতে পারবে না, যা রাশিদের কাছে কষ্টদায়ক।
তিনি বলেন, 'গত এক-দেড় বছরে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি এই ফলের জন্য, কিন্তু সব সময় ফল আপনার পক্ষে যাবে না। ১০০ বার সাফল্য পেলে মানুষ সেই একবারের ব্যর্থতাই বেশি আলোচনা করে, আগের ভালো ফল ভুলে যায়-এটাই বেশি চ্যালেঞ্জিং।'
তিনি আরও বলেন, 'সেই মান ধরে রাখা কঠিন, কিন্তু মজারও। আলাদা কিছু করতে হয় না, নিজের দক্ষতা আনতে হয়। আর দক্ষতা আসে অনুশীলন থেকে। যত বেশি কঠোর পরিশ্রম করবেন, খেলায় তত বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে। চাপ আছে, তবে উপভোগ্যও।'
রাশিদকে আরও হাসিখুশি করে তোলে স্থানীয় এক সাংবাদিকের মন্তব্য। বাড়ির জন্য তার মনখারাপের কথা শুনে সাংবাদিক প্রস্তাব দেন-দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির লাজপত নগরে যেতে পারেন, যেখানে বড় আফগান সম্প্রদায় রয়েছে।
রাশিদ মজার ছলে বলেন, 'আগে যেতাম, যখন আমরা এত বিখ্যাত ছিলাম না। এখন একটু কঠিন।'
এটাই তো তারকা হওয়ার মজা!
এমআর/টিএ