© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকায় বিএনপির এই এমপি!

শেয়ার করুন:
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকায় বিএনপির এই এমপি!

ছবি: সংগৃহীত

সাব্বির আহমেদ, মোজো এডিটর-ইন-চিফ
০১:৩৫ পিএম | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
এবারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সাতজন রয়েছেন উচ্চশিক্ষিত পিএইচডি ডিগ্রিধারী। যাদের মধ্যে মন্ত্রিসভায় ঠাই পেতে পারেন উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক এমপি। এর মধ্যে পেশাগতভাবে অত্যন্ত শিক্ষিত এবং অভিজ্ঞদের এবারের মন্ত্রিসভায় রাখা হবে বলে ধারণা করছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তবে মন্ত্রীত্বের বিষয়টি এখনো তারেক রহমানের 'সিক্রেট ফাইল' হিসেবেই রয়েছে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. এম এ মুহিতের নাম জোরেশোরেই আলোচনায় এসেছে। তিনি জনস্বাস্থ্য এবং অনগ্রসর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের বক্তব্যে ও বিভিন্নভাবে আলোচনায় ফুটে উঠেছে অনগ্রসর জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজের বিষয়টি। যে কারণে এবার সমাজ কল্যাণ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গুরুত্ব পাবে - বলেই ধারণা করা হচ্ছে। 

এই মন্ত্রণালয়েই সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিবেচনায় রয়েছেন সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. এম এ মুহিত। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার নাম তারেক রহমানের সিক্রেট ফাইলে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। ড. এম এ মোমেনের বাবা এম এ মতিন ছিলেন জিয়াউর রহমান সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রীও ছিলেন এম এ মতিন । 

সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজের অনগ্রসর, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করে সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে কেবল ড মুহিত একমাত্র ব্যক্তি যিনি আগে থেকেই এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত। শুধু দেশে নয় বৈশ্বিক নেটওয়ার্কেও তিনি এসব কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আবার জনস্বাস্থ্য হাতে তার বিশেষ ভূমিকার জন্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার নামের আলোচনা প্রবল। 

১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। এরপরই মন্ত্রীত্ব বন্টন। এরই মধ্যে মন্ত্রী পদে সম্ভাব্য নামগুলো আলোচনায় এসেছে। সামাজিক নিরাপত্তা ও সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করে এমন মন্ত্রণালয়ে কে আসছেন সেই বিষয়টিও আলোচনায়। এবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সরকারের গুরুত্ব পাবে এমন কি ধরে নেয়া হচ্ছে। কেননা তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা জোবাইদা রহমান অনগ্রসর জনগোষ্ঠী নিয়ে তাদের বিশেষ চিন্তাভাবনা দেখিয়েছেন। 

দেখা গেছে, তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারনাকালে সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবন্ধীদের মধ্যে একটি অনুষ্ঠানে হুইলচেয়ার বিতরণ করেছিলেন। এটি ছিল বগুড়ায় জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আয়োজন। যার আয়োজক ছিলেন ড. এম এ মুহিত। 

এছাড়া বিএনপি'র অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থাপনায় থাকতে পারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয়ের গুরু ভার সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞ ও দক্ষতা সম্পন্ন একজনকেই দিতে পারেন তারেক রহমান। ড. এম এ মুহিত বিএনপির উচ্চশিক্ষিত পিএইচডি ডিগ্রিধারী ৭ বিজয়ী সংসদ সদস্যদের একজন। 

এ বিষয়ে জানতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সিদ্ধান্ত তারেক রহমানের হাতে। একমাত্র তিনিই যোগ্যতা এবং দক্ষতা বিবেচনায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নির্ধারণ করবেন। সেটা আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানা যাবে। 

নতুন প্রজন্মের স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমাজসেবা তথা পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী নিয়ে দেশে-বিদেশে কাজের জন্য নন্দিত ড. এম এ মুহিত। ড. মুহিত লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন থেকে পিএইচডি এবং ইউসিএল থেকে এমএসসি করা একজন আন্তর্জাতিক মানের গবেষক। একই সঙ্গে মানবতার সেবক হিসেবে পরিচিত। তিনি হাজার হাজার মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার এক বিশাল কর্মযজ্ঞের নায়ক। ৪টি দেশে তিনি সমাজসেবামূলক কাজ এবং বাংলাদেশে ১১টি চক্ষু হাসপাতাল ও মা-শিশু হাসপাতাল পরিচালনা করছেন। এছাড়া ২৮টি দেশের ৮০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি বিশাল নেটওয়ার্কের (GLM-CPR) নীতিনির্ধারক হিসেবে তাঁর রয়েছে বিরল প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। 

স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে তাঁর দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা তাঁকে একজন দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল জননেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এবারে সংসদ নির্বাচনে তিনি সিরাজগঞ্জ-৬ শাহজাদপুর আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রে আলোচনা উঠেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে যোগ্যতা এবং দক্ষতার মূল্যায়নে তাকেই বেছে নিতে পারে বিএনপি।

টিকে/

মন্তব্য করুন