কেন এআই-কে এত ভয় পান অভিষেক বচ্চন?
ছবি: সংগৃহীত
০২:১১ পিএম | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রযুক্তির দ্রুত বদলে যাওয়া দুনিয়ায় যেখানে অনেকেই সম্ভাবনার আলো দেখছেন, সেখানে খানিক শঙ্কার কথাই শোনালেন অভিনেতা অভিষেক বচ্চন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে নিজের অস্বস্তির কথা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। তার ভাষায়, এই প্রযুক্তি তাকে ভয় দেখায়, আর এই ভয়টুকু নাকি প্রতিটি অভিনেতারই থাকা উচিত।
অভিষেকের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃজনশীল জগতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অ্যানিমেশন কিংবা বিশেষ দৃশ্য নির্মাণে এর ব্যবহার সময় বাঁচাতে পারে, খরচ কমাতে পারে, এমনকি প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ছবিকে সমৃদ্ধ করতে পারে। কিন্তু এর অপব্যবহারই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা। তিনি মনে করেন, যন্ত্র দিয়ে তৈরি দৃশ্য যতই নিখুঁত হোক, তাতে মানুষের অনুভবের উষ্ণতা অনেক সময় অনুপস্থিত থেকে যায়।
শুধু চলচ্চিত্র নয়, চিকিৎসা বা আইনি ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি বড় রকম পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করেন তিনি। তবু সৃজনশীলতার জায়গায় যন্ত্রের অতিরিক্ত উপস্থিতি তাকে অস্বস্তিতে ফেলে। তার কথায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি অনেক কিছুই দৃষ্টিনন্দন, কিন্তু সেখানে প্রাণের ছোঁয়া নেই। এই ‘প্রাণহীনতা’ই তাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায়।

অভিষেক আরও জানান, তিনি নিজেও এখনও পুরো বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি। আর না বুঝতে পারার জায়গা থেকেই জন্ম নিচ্ছে ভয়। তবু শেখার আগ্রহ তার কম নয়। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু জানার চেষ্টা করেন তিনি। তার বিশ্বাস, প্রযুক্তি যেমন মানুষের উপকার করতে পারে, তেমনি ভুল ব্যবহারে কারও ভাবমূর্তি নষ্টও করতে পারে। তাই এই শক্তিশালী মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সঠিক আইন ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন অভিনেতা।
ঝলমলে পর্দার মানুষটির কণ্ঠে তাই এক ধরনের সতর্ক সুর প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে অস্বীকার নয়, বরং বুঝে, মেপে ব্যবহার করার আহ্বান। কারণ তার বিশ্বাস, যন্ত্র যতই এগিয়ে যাক, শিল্পের আসল শক্তি শেষ পর্যন্ত মানুষের অনুভূতিতেই লুকিয়ে থাকে।
পিআর/টিকে