বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বয়সে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৩২ পিএম | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও তার ফলাফলের ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক জয় লাভের পর তারেক রহমান বাংলাদেশ নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পথে রয়েছেন, এবং এই অবস্থান তাকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জায়গা করে দিচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যার ফলে তার নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগুতে শুরু করেছে।
নির্বাচনি ফলাফল ও নিয়মানুযায়ী তারেক রহমান আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত থাকার পর দেশে ফিরে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের অংশ হতে যাচ্ছেন। ৬০ বছর বয়সে ক্ষমতার শীর্ষ পদে আসার কারণে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়বেন।
বাংলাদেশে বয়স ৪৫-৫৫ এই রেঞ্জের মধ্যে সরকার প্রধান হওয়া ছিল স্বাভাবিক প্রবণতা; কিন্তু এবার ৬০ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রেক্ষাপটে এটি একটি অনন্য ঘটনা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৪৬ বছর। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার সময় তার বয়স ছিল ৫২ বছর। পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকে সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরার পর বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রথমবার যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তার বয়স ছিল ৪৬ বছর।
অন্যদিকে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন তার বয়স ছিল ৪৯ বছর। সে তুলনায় তারেক রহমানের ৬০ বছর বয়সে প্রথমবার সরকার প্রধান হওয়াকে বিশ্লেষকরা দেখছেন এক ‘পরিণত রাজনৈতিক প্রজ্ঞার’ অভিষেক হিসেবে। তারা বলছেন, যেখানে তার পূর্বসূরিরা তুলনামূলক কম বয়সে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসীন হয়েছিলেন, সেখানে তারেক রহমান দীর্ঘ সংগ্রাম, কারাবরণ এবং নির্বাসির জীবনের এক বিশাল অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে ক্ষমতায় আসছেন। এই দীর্ঘ সময় তাকে কেবল ধৈর্যশীলই করেনি, বরং তাকে দিয়েছে গভীরতর রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি, যা তাকে দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়েও তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রাসঙ্গিক রেখেছে।
নির্বাচনের পর পুঁজিবাজার ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি এখন নতুন সরকারের কাছে কেন্দ্রীভূত — বিশেষ করে অর্থনীতি, প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, নানা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তার নির্বাচনী দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাব্যতাকে ইতোমধ্যেই ‘ফ্রন্ট-রানার’ হিসেবে তুলে ধরে বিশ্লেষণ করেছে।
ইউটি/টিএ