শিক্ষামন্ত্রী হচ্ছেন ববি হাজ্জাজ
ছবি: সংগৃহীত
০১:২৩ পিএম | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি মনোনীত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় শপথগ্রহণের জন্য ডাক পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার পর সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পরেই এ তথ্য জানা যায়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফলে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হকের চেয়ে ২ হাজার ৩২০ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ মোট ভোট পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭। অন্যদিকে মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এছাড়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন। যেখানে জামায়াত এককভাবে পেয়েছে ৬৮ আসন এবং ৯ আসন পেয়েছে তাদের শরিক দলগুলো।
জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫১টি আসনে বিজয়ী হলেই সরকার গঠন করা যায়। অর্থাৎ মোট আসনের ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ আসনে জয়ী হলেই সরকার গঠন করতে পারে একটি দল। বিএনপির এই নিরঙ্কুশ জয়ে উল্লসিত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সবমিলিয়ে বিএনপিতে বইছে স্বস্তির সুবাতাস।
এবারের নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পেছনে কাজ করেছে নানা কারণ। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক লিডারশিপ, দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মাধ্যমে দলের লাখো নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার, দলের অটুট ঐক্য, দলের প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের সীমাহীন ত্যাগ।
তবে এ বিজয়ের পেছনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো দলের কাণ্ডারী তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফেরা এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদান- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। নির্বাচনী প্রচারে তার নেতৃত্ব, দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন বিএনপিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান কেবল নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করেননি, বরং দলকে দীর্ঘদিন পর একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক রোডম্যাপ দিয়েছেন। এই রোডম্যাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
টিজে/টিকে