চট্টগ্রাম থেকে প্রথমবারের মতো অর্থমন্ত্রী হলেন আমীর খসরু
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৬ এএম | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম থেকে প্রথমবারের মতো অর্থমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভায় শপথ নেন বিএনপি নেতা খসরুসহ ৪৯ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। তারেক রহমানের মন্ত্রী পরিষদে অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।
খসরুর মন্ত্রী হওয়ার খবরে চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় চট্টগ্রাম প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গঠিত হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, খসরুর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় নেতারা বলেন, মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্ত হলো। এর মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নতুন গতি পাবে বলে তারা আশা করছেন।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রত্যাশা, বন্দরনগরীর অবকাঠামো, যানজট নিরসন, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন-এসব খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান তারা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে জয় পায় বিএনপির প্রার্থীরা। নির্বাচনের পর আমির খসরু মন্ত্রী পরিষদে স্থান পাবেন বলেই গুঞ্জন ছিল।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হওয়ায় চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক নগরী গড়ার কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে আশা বিএনপির এই শীর্ষ নেতার।
চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম বলেন, দুঃসময়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের পোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। দেশনায়ক তারেক রহমান তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এর আগে চট্টগ্রামের কাউকে দেওয়া হয়নি। এবার সেটি হয়েছে, আমরা তাতে গর্বিত।
তিনি বলেন, এবারের সরকার দেশ ও দশের জন্য কাজ করবে। এটি নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বনেদি পরিবারের সন্তান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাদের মূল নিবাস উত্তর কাট্টলী এলাকায়। খসরুর বাবা বর্তমানে প্রয়াত মাহমুদুন্নবী চৌধুরীও রাজনীতিবিদ ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে পূর্ব পাকিস্তানে আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই পরিবারের বড় সন্তান আমীর খসরু দেশে স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনার পর লন্ডন থেকে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।
পারিবারিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকা আমীর খসরু নব্বইয়ের দশকে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে পড়ে যান। ১৯৯১ সালে বন্দর-পতেঙ্গা আসন থেকে জয়ী হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিয়ে উপনির্বাচনে খসরুকে প্রার্থী করেন। প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত করেন তিনি। এরপর ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত দুটি সংসদ নির্বাচনে এবং ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সরকারে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন তিনি। পরে দলের দুর্দিনে স্থায়ী কমিটির সদস্য হন তিনি।
এমআই/এসএন