© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৪ মন্ত্রী পেল রংপুর বিভাগ

শেয়ার করুন:
৪ মন্ত্রী পেল রংপুর বিভাগ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:২৬ পিএম | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করা বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন রংপুর বিভাগের ৪ জন সংসদ সদস্য।

শপথ নেওয়া রংপুর বিভাগের চার মন্ত্রী হলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আসাদুল হাবিব দুলু ও ফরহাদ হোসেন আজাদ। এদের মধ্যে দুজন এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী হলেন। বাকি দুজন এর আগেও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারা। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পাঠ করান।  

প্রতিমন্ত্রী থেকে এবার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।

১৯৪৮ সালের ১ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে প্রায় ১৭ বছর শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন তিনি।

১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১১ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার নতুন সরকারে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন তিনি।

প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী ডা. জাহিদ

প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিপরিষদে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ। দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই মন্ত্রিসভায় তার স্থান হয়েছে।  

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০১০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আসনে দুই লাখ ৫ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন এক লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট।

উপমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার মন্ত্রী দুলু

উপমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আসাদুল হাবিব। ২০০১ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার–দলীয় জোট সরকারের আমলে পর্যায়ক্রমে যোগাযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আসাদুল হাবিব দুলুর জন্ম ১৯৬০ সালের ৪ জুলাই। শিক্ষাজীবনে তিনি রংপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি ও অর্থনীতিতে স্নাতক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৬ সালে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে তার পদার্পণ। পরে ১৯৮৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯০ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি পদে আছেন। বর্তমানে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসাদুল হাবিব দুলু সামাজিক আন্দোলন ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ ও ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর প্রধান সমন্বয়ক।

৫৪ বছর পর বোদা-দেবীগঞ্জে চমক ফরহাদ

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন পঞ্চগড়-২ আসনের (বোদা ও দেবীগঞ্জ) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এই আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হলেন।

এর আগে এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

ফরহাদ হোসেন আজাদ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি বোদা-দেবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব। ২০১৮ সালে পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।

এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৬২ ভোট।

১৯৬৬ সালের ১২ মার্চ জন্ম নেয়া ফরহাদ হোসেন আজাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশায় ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন আজাদ সক্রিয় রাজনীতি শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই।

ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসা ফরহাদ হোসেন রাজশাহী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মুজিব হলের আহ্বায়ক, ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ছিলেন। পরে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির দায়িত্ব পান। এছাড়া পঞ্চগড় জেলা ফুটবল ফেডারেশনের আহ্বায়ক এবং বাফুফের জাতীয় ফুটবল লিগের সদস্য। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন গভর্নমেন্ট রিলেশন কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন তিনি।

অতীতে তিনি কখনো জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। তবে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড় -২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

রংপুর বিভাগে ২৭ জনই নতুন সংসদ সদস্য

এদিকে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ১৫টি আসনে জয়লাভ করে। অন্যদিকে ১৮টি আসনে জয়লাভ করে ১১ দলীয় জামায়াত জোট। এবার রংপুর বিভাগে নির্বাচিত ৩৩ জন সংসদ সদস্যগণের মধ্যে ২৭ জনই নতুন। ৬ জন রয়েছেন পুরাতন সদস্য, তাদের সংসদের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

নির্বাচিত কমিশন ঘোষিত ফলাফলে রংপুর বিভাগে বিএনপি পেয়েছে ১৫টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ১৫টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২টি এবং একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচিত পুরাতন সংসদ সদস্যরা হলেন- ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ডা. আব্দুস সালাম। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের বিজয়ী জাহিদুর রহমান জাহিদ প্রথমবার সংসদে যাচ্ছেন। পঞ্চগড়ের দুটি আসনেই নতুন বিজয়ী পঞ্চগড়-১ আসনে মুহম্মদ নওশাদ জমির এবং পঞ্চগড়-২ আসনে ফরহাদ হোসেন।

দিনাজপুরের ৬টি আসনের মধ্যে পুরাতন সদস্যরা হলেন- দিনাজপুর-৪ আসনের আখতারুজ্জামান মিয়া ও দিনাজপুর-৫ আসনের রেজওয়ানুল হক। নতুন বিজয়ীরা হলেন- দিনাজপুর-১ এর মঞ্জুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ এর সাদিক রিয়াদ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ এর সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, এবং দিনাজপুর-৬ এর অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

নীলফামারীর চারটি আসনের সব বিজয়ী নতুন। নীলফামারী-১ আসনে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, নীলফামারী-২ (সদর) আসনে আল ফারুক আবদুল লতিফ, নীলফামারী-৩ আসনে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী এবং নীলফামারী-৪ আসনে আব্দুল মুনতাকিম।

লালমনিরহাটের তিনটি আসনের মধ্যে নতুন বিজয়ীরা হলেন লালমনিরহাট-১ আসনে ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান এবং লালমনিরহাট-২  আসনে রোকন উদ্দিন বাবুল। লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের বিজয়ী আসাদুল হাবিব দুলু পুরাতন সদস্য।

রংপুরের ৬টি আসনের সব বিজয়ী নতুন। রংপুর-১ আসনে রায়হান সিরাজী, রংপুর-২ আসনে এটিএম আজহারুল ইসলাম, রংপুর-৩ (সদর) আসনে মাহবুবার রহমান বেলাল, রংপুর-৪ আসনে আক্তার হোসেন, রংপুর-৫ আসনে গোলাম রব্বানী, এবং রংপুর-৬ আসনে নুরুল আমিন।

কুড়িগ্রামের ৪টি আসনের বিজয়ীরাও সবাই নতুন। কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী ও ভরুঙ্গামারী) আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিকুর রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান।

গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের চারজন নতুন। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে মো. মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনে আবুল কায়সার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, এবং গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে মো. আব্দুল ওয়ারেছ। গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে পুরাতন সদস্য শামীম কায়সার লিংকন বিজয়ী হয়েছেন।

এমআই/এসএন

মন্তব্য করুন