© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রোজায় ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ? জেনে নিন সহজ উপায়

শেয়ার করুন:
রোজায় ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ? জেনে নিন সহজ উপায়

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫০ এএম | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রমজান মাসে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে শরীরের পাশাপাশি ত্বকের ওপরও স্পষ্ট প্রভাব পড়ে। সারাদিন পানি না খাওয়া, ঘুমের অনিয়ম এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের ফলে অনেকের ত্বক শুষ্ক, নিস্তেজ ও প্রাণহীন হয়ে যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে ব্রণ বাড়ে, ত্বক অতিরিক্ত তেলতেলে হয়ে ওঠে, চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে কিংবা ঠোঁট ফেটে যায়। ফলে আয়নায় তাকালেই ক্লান্ত ও মলিন চেহারা চোখে পড়ে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য সচেতনতা ও নিয়মিত যত্ন নিলেই রোজার সময়েও ত্বক রাখা সম্ভব সতেজ ও উজ্জ্বল। এখন থেকেই সঠিক রুটিন মেনে চললে ঈদের সময় ত্বক থাকবে প্রাণবন্ত ও দীপ্তিময়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখে হালকা করে বরফ ঘষে নিলে চোখের ফোলা ভাব কমে এবং ত্বক টানটান দেখায়। বাইরে বের হওয়ার আগে একইভাবে বরফ ব্যবহার করলে ত্বক আরও সতেজ লাগে। বরফ রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সহায়তা করে এবং অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব কমায়। এছাড়া দিনে কয়েকবার পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখে ঝাপটা দিলে ধুলাবালি জমে ত্বক নিস্তেজ হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।

রমজানে ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারায়, তাই প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর বজায় রাখে এবং সংবেদনশীলতা কমায়। দিনে অন্তত দুইবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। ত্বক বেশি শুষ্ক হলে ভারী ময়েশ্চারাইজার বা হালকা তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনের বেলা বাইরে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রয়োজন, কারণ এই সময় ত্বক তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল থাকে।

রাতে ঘুমের আগে ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। অ্যালোভেরা জেল সরাসরি ব্যবহার করলে ত্বকের পানিশূন্যতা দূর হয়। টক দই, মধু ও সামান্য হলুদ মিশিয়ে ঘরোয়া মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করা যায়। ব্রণ ও অতিরিক্ত তেলের সমস্যায় মুলতানি মাটি ও গোলাপজল কার্যকর হতে পারে। চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে ঠান্ডা চা-ব্যাগ, শসা বা আলুর রস ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।

ত্বকের সুস্থতা শুধু বাহ্যিক যত্নে সীমাবদ্ধ নয়। ইফতার ও সেহরিতে ফল, শাকসবজি, বাদাম, মাছসহ পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত। অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত ও লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এসব খাবার শরীরকে পানিশূন্য করে তোলে। ভাজাপোড়া কম খাওয়াই উত্তম। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বক হাইড্রেট থাকে।

রমজানে খাওয়া ও ঘুমের সময় বদলে যাওয়ায় ত্বকের যত্নের রুটিনেও সামঞ্জস্য আনা জরুরি। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা—এই তিনটি ধাপ মেনে চললে ত্বক থাকবে সুস্থ ও উজ্জ্বল।

রমজান আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি শরীর ও ত্বকের যত্ন নেওয়ারও একটি সুযোগ। সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত যত্নই পারে ত্বককে ক্লান্তির ছাপ থেকে মুক্ত রাখতে।

সূত্র: বিবিসি, গালফ নিউজ ও অন্যান্য

এমকে/এসএন

মন্তব্য করুন