রাশিয়ায় স্পেসএক্স- এর স্টারলিংক সেবা বন্ধ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪২ এএম | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন এক মোড়ের ইঙ্গিত মিলছে। মার্কিন উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মালিকানাধীন কম্পানি স্পেসএক্স রাশিয়ার জন্য স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তনের দাবি করছে কিয়েভ।
ইউক্রেনীয় সেনাদের দাবি, স্টারলিংক বন্ধ হওয়ায় রাশিয়ার আক্রমণের সক্ষমতা কমে গেছে, একই সঙ্গে মাঠের নিয়ন্ত্রণে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা।
নিজেকে ‘জিওভান্নি’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ইউক্রেনীয় ড্রোন অপারেটর বলেন, ‘রাশিয়ানরা মাঠ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়েছে।
সংখ্যাগুলো বলছে, তাদের আক্রমণ ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। হামলা কমেছে, ড্রোন কমেছে- সবকিছুই কমেছে।’
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের অনুরোধে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ইউক্রেনে চালু থাকা স্টারলিংক টার্মিনালগুলোর বেশির ভাগই ‘হোয়াইট লিস্ট’ ছাড়া বন্ধ করে দেয় স্পেসএক্স। এতে রাশিয়ান বাহিনীর ব্যবহৃত টার্মিনালও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
গত চার বছরের যুদ্ধে উভয় পক্ষই স্টারলিংকের ওপর নির্ভরশীল ছিল। অভিযোগ রয়েছে, খারকিভ অঞ্চলে চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনে প্রাণঘাতী হামলায় ব্যবহৃত ‘গেরান-২’ ড্রোনেও স্টারলিংক সংযুক্ত ছিল।
পরিস্থিতির সুযোগ নেয় ইউক্রেনের স্বেচ্ছাসেবী অনলাইন গ্রুপ ‘ইনফরমন্যাপালম’। তারা ভুয়া বার্তার মাধ্যমে রুশ সেনাদের কাছ থেকে স্টারলিংক টার্মিনালের তথ্য হাতিয়ে নেয়।
গ্রুপটির দাবি, তারা ক্রিমিয়া থেকে বেলারুশের গোমেল পর্যন্ত ২,৪২৫টি টার্মিনাল শনাক্ত করেছে। কিছু রুশ সেনা দ্রুত সংযোগ ফেরত পাওয়ার আশায় অনলাইনে প্রায় ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত অর্থও পাঠিয়েছে।
এরপর সম্মুখসারির কাছাকাছি রুশ টার্মিনালগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করে ইউক্রেন আর্টিলারি ও ড্রোন হামলা চালায়।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ সতর্ক করে বলেছে, রাশিয়ার হয়ে স্টারলিংক নিবন্ধনে সহযোগিতা করা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল, যার শাস্তি দীর্ঘ কারাদণ্ড।
স্টারলিংকের উচ্চগতির ইন্টারনেট না থাকায় রুশ বাহিনী বিকল্প হিসেবে রেডিও ও তারযুক্ত যোগাযোগে ফিরতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান সেরহি কুজান বলেন, ‘রুশ ড্রোন অপারেটররা আগে ফ্রন্টলাইন থেকে ১০০-২৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও আঘাত করতে পারত। এখন তাদের সেই সক্ষমতা নেই।’
ফ্রন্টলাইনের কাছ থেকে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিওভান্নি বলেন, ‘রাশিয়ানরা দ্রুত মানিয়ে নেবে- এ নিয়ে সন্দেহ নেই।’
ইউক্রেনের দক্ষিণ কমান্ডের মুখপাত্র ভ্লাদ ভলোশিন জানান, তারা ‘গ্রে জোন’ বা দুই বাহিনীর মাঝের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন। ‘আমরা শত্রুকে কোথাও গেঁড়ে বসতে দিচ্ছি না’, বলেন তিনি।
সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইভান স্টুপাকের মতে, ইউক্রেনের হাতে হয়তো দুই মাসের মতো সময় আছে এই পরিস্থিতি কাজে লাগানোর। ‘রুশ সাঁজোয়া বাহিনী আংশিক অন্ধ ও বধির হয়ে গেছে। হতাশা বাড়লে ছোট পরিসরের পাল্টা আক্রমণও বড় সাফল্য এনে দিতে পারে,’ বলেন তিনি।
যুদ্ধের ময়দানে কয়েক সেকেন্ডের যোগাযোগ বিলম্বও যেখানে জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান গড়ে দেয়, সেখানে স্টারলিংক বন্ধের প্রভাব কতটা গভীর হবে তা আসন্ন সপ্তাহগুলোতেই নির্ধারিত হবে।
এসকে/এসএন