উজিরপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৩ এএম | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পর বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, কে বা কারা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে চলে গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে আওয়ামী লীগের অজ্ঞাতনামা কিছু নেতাকর্মী তাদের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বিকেল থেকে আত্মগোপনে থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ওই পতাকা উত্তোলনের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে নগরের বিবির পুকুরের পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত সিটি করপোরেশনের এনেক্স ভবনে থাকা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে দলীয় ব্যানার ও জাতীয় পতাকা টাঙানোর ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি জানাজানি হলে নগরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে স্থানীয়রা ব্যানারটি অপসারণ করেন এবং থানা পুলিশ গিয়ে জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলে। তবে কে বা কারা কখন ব্যানার ও পতাকা উত্তোলন করেছে, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি।
ব্যানারে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ, সজীব ওয়াজেদ জয়, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি ছিল। এতে লেখা ছিল- "শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।"
ব্যানারের নিচে নিষিদ্ধ সংগঠন বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খানের নাম ও ছবি সংযুক্ত ছিল। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন সদর রোডে সিটি করপোরেশনের এনেক্স ভবনে অবস্থিত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন ছাত্র-জনতা। এতে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তবে ভবনের নিচতলার একটি অংশে বিদ্যুৎ বিভাগের ফিডার অফিস এবং অন্য অংশে একটি মসজিদ রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় নগর ভবনের স্বাস্থ্য শাখার আংশিক কার্যক্রম চালু আছে। স্থানীয়দের ধারণা, ভবনের ওপর দিক থেকেই ব্যানারটি টাঙানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, কে বা কারা, কখন এবং কীভাবে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক সুমন কুমার আইচ বলেন, বিকেল ৩টার দিকে খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে সেখানে কোনো ব্যানার পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
এসএস/এসএন