ক্ষমা চেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৪২ পিএম | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিতর্কিত সামরিক আইন বা ‘মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে ২০২৪ সালে জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল। রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার একদিন পর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পার্লামেন্ট অচল করার উদ্দেশ্যে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়া রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।
সামরিক শাসন জারির চেষ্টার ফলে জনমনে সৃষ্ট ক্ষোভ ও হতাশা স্বীকার করে ইউন বলেন, পদক্ষেপটি তিনি ‘সম্পূর্ণভাবে জাতির স্বার্থে’ নিয়েছিলেন। তার আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশ রক্ষার সংকল্প থাকা সত্ত্বেও তার অদূরদর্শিতার কারণে জনগণের যে ভোগান্তি হয়েছে, সেজন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়কে ‘মেনে নেওয়া কঠিন’ বললেও উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি ৬৫ বছর বয়সী এই সাবেক প্রেসিডেন্ট। দেশটির আইনে সাধারণত যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা ২০ বছর কারাভোগের পর প্যারোলের আবেদন করতে পারেন।
রায়ে বিচারক জি গুই-ইয়ন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যেই ইউন পার্লামেন্ট ভবনে সেনা পাঠিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য আইনসভাকে অচল করতে চেয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে টেলিভিশনে আকস্মিক ভাষণে ইউন সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। সে সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রভাব ও তথাকথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির’ হুমকির কথা উল্লেখ করে বেসামরিক সরকার স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ছয় ঘণ্টার মধ্যেই আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্টে জরুরি ভোটের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।
এমআর/টিএ