লিড মোবাইল জার্নালিস্ট থেকে মোজো এডিটর-ইন-চিফ!
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৬ পিএম | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মোজো! বাংলাদেশের জার্নালিজমে এই টার্মটি তখন সবে দাঁড়াচ্ছে। শুরুতেই একটা রেভল্যুশন! 'বাইলাইন' বদলে গেল। তখন ২০২১ সাল! বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো সাংবাদিকের Job Title বা Post লেখা হলো-'মোবাইল জার্নালিস্ট'। তখন আমার ডেজিগনেশন ছিল Lead Mobile Journalist। সচিবালয়ের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডেও সেটি লেখা হলো। বাংলাদেশে এই বাইলাইন প্রথম। তখন দেশের প্রথম মোজো স্টেশনের 'Byline' থেকে শুরু করে 'Dissemination'-সবকিছুর পেছনে আমাদের কনসালটেন্ট ছিলেন ড. কাবিল খান জামিল। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি মোবাইল জার্নালিস্ট। আর পেছনে মূল শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ টাইমস পাবলিশার-আবেদ মনসুর। তিনি বাংলাদেশ টাইমসের মূল ভিত্তি এবং অগ্রযাত্রার প্রধান রূপকার।
আমাদের যাত্রা শুরুর পর দেশের অন্যান্য গণমাধ্যম 'মোবাইল জার্নালিস্ট' পদবি গ্রহণ করতে শুরু করল। মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন, প্রিন্ট এবং পরবর্তীতে টিভিতে আলাদা রিপোর্টার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলো। এখন যেকোনো টিভি বা গণমাধ্যমের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে 'মোবাইল জার্নালিস্ট' পদটি অকপটেই লেখা থাকে। বাংলাদেশ টাইমসের প্রথম টিমের প্রায় সবাই এখন অন্যান্য গণমাধ্যমে লিড ভূমিকায় আছেন। দেশের মোবাইল জার্নালিজম বিকাশে আমাদের সেই প্রথম টিমটি ঢাকায় 'মশাল বাহক' হিসেবে কাজ করছে।
এবার আসি Lead Mobile Journalist থেকে Mojo Editor-in-Chief-এ উত্তরণ হওয়ার পর্বে। গত বছরের (২০২৫) শুরুতে বাংলাদেশ টাইমসের পাবলিশার আবেদ ভাই পদবি আপগ্রেডেশনের তাগাদা দেন। যেহেতু আগের পজিশনটি বাংলাদেশে ইউনিক ছিল, তাই এর থেকে পিনাকল রোল কী করা যায়, তা নিয়ে আমরা আবারো জামিল ভাইয়ের কাছে গেলাম। জামিল ভাই মোবাইল জার্নালিজমের আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিস্ট ও থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং অ্যাকাডেমিশিয়ান ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।সেখান থেকে কোনো নতুন চিন্তাভাবনা আসবে, সেই অপেক্ষায় ছিলাম। এরপর জামিল ভাই-ই প্রথম জানালেন-'Mojo Editor-in-Chief'। আবেদ ভাই দ্বিধাহীন চিত্তে পদবিটি গ্রহণ ও কার্যকর করলেন। ওই সময় থেকে আমি বাংলাদেশের মোবাইল সাংবাদিকতায় প্রথমবারের মতো 'Pinnacle Role' হিসেবে 'Mojo Editor-in-Chief' পদে পদোন্নতি পেলাম!
পদবি অনুসারে এটি শীর্ষ অবস্থান (Top Position)। তবে আমি মনে করলাম, এখনই নতুন কিছু করার সুযোগ! প্রথম কয়েক মাস সাংবাদিকতায় Artificial Intelligence (AI) যুক্ত করা শুরু করলাম। বিশ্বে যেখানেই AI-এর যেসব টুলস বের হচ্ছে বা ব্যবহার শুরু হচ্ছে, সেগুলো নিয়েই স্টাডি ও প্র্যাকটিস করতে থাকলাম। একই সঙ্গে বাংলাদেশ টাইমসের ভয়েস থেকে শুরু করে মিউজিক-সবই Artificial Intelligence (AI)-এর আওতায় চলে গেল। ফলাফল এলো চমকপ্রদ! নিউজরুম থেকে শুরু করে মোজো-সবাই AI প্র্যাকটিস শুরু করল। কয়েক মাস আগে আমাদের রিপোর্টিং টিমের সব মোবাইল জার্নালিস্টদের নিয়ে একটি সেশন করলাম। একেবারে বেসিক লেভেল থেকে হাতেখড়ি হলো; অর্থাৎ Gemini দিয়ে স্ক্রিপ্ট ও টাইটেল তৈরি থেকে শুরু করে AI Studio ও Suno AI-এর ব্যবহার তাদের দেখালাম।

মোবাইল জার্নালিজমে AI এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। আমার হাতে এখন নিউরাল-ব্যান্ড আর চোখে মেটাগ্লাস! আরও আছে হাতে x300, যা মোবাইল ক্যামেরাকে উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রথম মেটা ডিসপ্লে ব্যবহারকারী সম্ভবত আমিই।
লেখক-সাব্বির আহমেদ, মোজো এডিটর-ইন-চিফ, বাংলাদেশ টাইমস
টিকে/