যুক্তরাষ্ট্র-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্য চুক্তি, শুল্ক কমে ১৯ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫১ এএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার জন্য বড় ধরনের বাণিজ্য সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ আলোচনার পর দেশ দুটির মধ্যে একটি চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ইন্দোনেশীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক ৩২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এই চুক্তির বিস্তারিত জানানো হয়। চুক্তির আওতায় ইন্দোনেশিয়া তাদের বাজারে ৯৯ শতাংশের বেশি মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে বাণিজ্য বাধা অপসারণ করবে। বিনিময়ে জাকার্তা প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের মার্কিন পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রির বলেন, এই চুক্তি বাণিজ্য বাধা ভেঙে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থকে এগিয়ে নেবে। চুক্তিটি হয় ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তোর ওয়াশিংটনে সফরের সময়। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে যোগ দিতে সেখানে যান। বৈঠকে গাজা পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক বিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী আরলাঙ্গা হার্তার্তো বলেন, চূড়ান্ত চুক্তিটি দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে এবং এতে ইন্দোনেশিয়ায় আরও বিনিয়োগ আসবে। তার দাবি, শুল্ক সংক্রান্ত ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অনুরোধ যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করেছে।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই চুক্তির দৃষ্টিভঙ্গি হলো পারস্পরিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা এবং প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান। আরলাঙ্গা জানান, চুক্তির অংশ হিসেবে ১ হাজার ৭০০টির বেশি পণ্যের জন্য শুল্ক ছাড় নিশ্চিত করেছে ইন্দোনেশিয়া। এর মধ্যে কফি, মসলা, চকলেট, প্রাকৃতিক রাবার এবং দেশটির শীর্ষ রফতানি পণ্য পাম অয়েল রয়েছে।
এর বিনিময়ে ইন্দোনেশিয়া তাদের বাজার মার্কিন পণ্যের জন্য উন্মুক্ত করবে। হোয়াইট হাউজ জানায়, গাড়ির নিরাপত্তা ও নির্গমন, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড গ্রহণ করবে জাকার্তা। কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, সামুদ্রিক খাদ্য, প্রযুক্তি ও গাড়ি সংশ্লিষ্ট পণ্যে আমদানি বাধাও তুলে নেবে তারা।
ইন্দোনেশিয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে তুলা, সয়াবিন, গরুর মাংস, বোয়িং উড়োজাহাজ ও জ্বালানি রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বিরল খনিজ অবকাঠামো উন্নয়নে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করবে ইন্দোনেশিয়া। এতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ বাড়বে বলে জানানো হয়েছে।
এয়ারলাঙ্গা বলেন, চুক্তিটি ৯০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে। উভয় দেশ চাইলে শর্তে পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
এসএস/টিএ