© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার জনসমুদ্রে পরিণত, বিনম্র শ্রদ্ধায় অমর একুশে পালন

শেয়ার করুন:
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার জনসমুদ্রে পরিণত, বিনম্র শ্রদ্ধায় অমর একুশে পালন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:০৬ এএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সাদা-কালো পোশাকে নগ্ন পদ, হাতে বর্ণিল পুষ্পস্তবক আর কণ্ঠে সেই অবিনাশী গান– ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’ অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নগ্ন পায়ে প্রভাতফেরি নিয়ে আসা সাধারণ মানুষের ঢল।

বাঙালির হৃদয়ে আজ শোক আর গৌরবের অদ্ভুত এক শিহরন। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার জন্য আত্মদানকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেমেছে মানুষের ঢল। রাষ্ট্রাচার অনুযায়ী শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রথম প্রহর থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় শহীদ মিনার চত্বর, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন। এর ঠিক পরেই রাত ১২টা ৮ মিনিটে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ও বিশিষ্টজনদের শ্রদ্ধা

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।

এরপর পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। তিন বাহিনীর পক্ষে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান শ্রদ্ধা জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

শ্রদ্ধা জানাল বিভিন্ন দল ও সংগঠন

সকাল থেকেই রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের হিড়িক পড়ে যায়; যার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণ-অধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের মতো রাজনৈতিক দল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর মতো ছাত্র সংগঠনগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জুলাই ঐক্য, জুলাই মঞ্চের মতো সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।

জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে শহীদ মিনার এলাকা

প্রথম প্রহরে ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার চত্বর সর্বস্তরের মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয়। ভোরের আলো ফুটতেই সেই জনস্রোত আরও বিস্তৃত হয়। অনেককে দেখা যায় খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে। হাতে জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে হাজার হাজার মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদ বেদিতে ফুল দিচ্ছেন। পুরো এলাকা এখন দেশপ্রেম আর একুশের চেতনায় উদ্বেলিত।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী মোতায়েন রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভাষা শহীদদের এই আত্মত্যাগ কেবল বাঙালির নয়, আজ সারা বিশ্বের প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন