পুঁজিবাজারে সাপ্তাহিক লেনদেন বেড়েছে ৬৫ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত
০১:২১ পিএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দেশের পুঁজিবাজারে জাতীয় নির্বাচনের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচকে রেকর্ড উত্থান দেখা গেছে। এদিন প্রায় ২০১ পয়েন্ট বেড়েছিল সূচক। তবে এরপর টানা চার কার্যদিবসে সূচক নিম্নমুখী ছিল। এ সময়ে সূচক ১৩৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমেছে। সব মিলিয়ে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৬৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৮ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৫৯ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে সামান্য কমে ১ হাজার ৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯৭ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০৩টির, কমেছে ১৫৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৫০ কোটি ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৩৮ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৬৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ৬২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৬ দশমিক ৩১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০ দশমিক ২১ শতাংশ। সাধারণ বীমা খাত ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে অধিকাংশ খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে কাগজ ও মুদ্রণ খাতে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ দশমিক ৩০ ও সিরামিক খাতে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে। এছাড়া করপোরেট বন্ড খাতে দশমিক ৩৩ ও টেলিযোগাযোগ খাতে দশমিক ২৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৩৪৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৩৪ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৪৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ২৭২ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৫টির, কমেছে ৭০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির।
আরআই/টিএ