© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনে লাখ-লাখ কুকুর নিধন করছে মরক্কো

শেয়ার করুন:
২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনে লাখ-লাখ কুকুর নিধন করছে মরক্কো

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:২৩ পিএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মাস চারেক পরেই যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে গড়াবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। আর ২০৩০ আসর বসবে স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগালে। এখনও চার বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও নানা ভাবে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দেশগুলো। এসবেই মাঝেই মরক্কোর বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ, রাস্তাঘাট পরিষ্কার করতে লাখ-লাখ কুকুর নিধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। যা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, দেশে থাকা ৩০ লাখের বেশি পথকুকুর হত্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা বিভিন্ন ছবি ও নথি সংগ্রহ করেছে এবং বলছে, কিছু হত্যাকাণ্ড ইতিমধ্যেই ঘটেছে।

অস্কার মনোনীত অভিনেতা ও আন্দোলনকারী মার্ক রাফালো এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগগুলোকে ‘নৈতিক ব্যর্থতা’ বলে আখ্যা দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক পোস্টে রাফালো লিখেছেন, ‘একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনের প্রস্তুতির জন্য লাখ-লাখ কুকুর হত্যা কোন অগ্রগতি নয়, এটি নৈতিক ব্যর্থতা। মানবিক সমাধান আছে, আর সহিংসতার বদলে সহমর্মিতা বেছে নেয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।’

লন্ডনে মরক্কোর দূতাবাস অবশ্য এসব দাবি অস্বীকার করে বলেছে, ‘পথকুকুর নিধনের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং দেশটি মানবিক ও টেকসই প্রাণী ব্যবস্থাপনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তবে ইন্টারন্যাশনাল অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড প্রোটেকশন কোয়ালিশনে (আইএডাব্লিওপিসি) দাবি, স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘোষণা দেয়ার আগেই মরক্কে প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ প্রাণী গুলি, বিষপ্রয়োগ ও অন্যান্য সহিংস পদ্ধতিতে মারা হচ্ছিল। সংগঠনটি তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার পর কুকুর নিধন নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, মরক্কো এখন ৩০ লাখ কুকুর গণহত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগোতে পারে।’



গত আগস্টে দেশটি একটি বিল প্রস্তাব করে, যাতে বলা হয় ইচ্ছাকৃতভাবে কোন পথপ্রাণীকে হত্যা, নির্যাতন বা আঘাত করলে দুই থেকে ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে কেউ যদি পথপ্রাণীকে আশ্রয়, খাদ্য বা চিকিৎসা দেয়, সেক্ষেত্রেও জরিমানা বা পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।

ফুটব্লে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, তারা আইএডাব্লিওপিসিয়ের সঙ্গে কাজ করছে এবং প্রাণী কল্যাণ বিষয়ে মরক্কো কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ জমা দেবে। ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, ‘বিডিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আমরা স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি, যাতে প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা হয়।’

আইএডাব্লিওপিসিয়ের অভিযোগ, কুকুরদের স্ট্রিকনিন বিষ ইনজেকশন দিয়ে বা খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে বিষপ্রয়োগ করা হচ্ছে। সংগঠনটি দাবি, রাস্তায় টহল দেয়া বন্দুকধারীরা রাইফেল ও পিস্তল ব্যবহার করে কুকুরগুলোকে গুলি করছে। তাদের এক পিটিশনে বলা হয়, ‘কুকুরগুলোকে রক্তক্ষরণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়, তারা যন্ত্রণায় ছটফট করে ও চিৎকার করে। তাদের মৃতদেহ অনেক সময় যেখানে পড়ে সেখানেই পচতে দেয়া হয়।’

‘মধ্যযুগীয় ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরে ট্রাকে তোলা হয়, যেখানে অন্য আতঙ্কিত কুকুরও থাকে। এসব কুকুরকে তথাকথিত ভুয়া ডিসপেনসারিতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। কখনও ইনসিনারেটরে পুড়িয়ে ফেলা হয়, কখনও গণকবরে ফেলে দেয়া হয়। অনেক সময় ফেলার সময়ও সব কুকুর মারা যায় না।’

এসএস/টিএ

মন্তব্য করুন