ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় / মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের নাম না নেওয়ায় ছাত্রদলের প্রতিবাদ, আবার হলো মোনাজাত
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০১ পিএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষাশহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত হয়। তবে মোনাজাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ফের মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এদিন প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে পর্যায়ক্রমে জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব, কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি, বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ ও হল, বিভিন্ন সমিতি, শাখা ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে ভাষাশহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত হয়।
মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দিন খান আজহারী। তবে মোনাজাতে ইবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানান।
এ সময় তারা প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম মোনাজাতে উল্লেখ করা হলো না কেন? যার অবদানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত, তার নাম কিভাবে বাদ পড়তে পারে-এ প্রশ্নের জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। এ সময় তারা জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করে পুনরায় মোনাজাত করার দাবি জানান।
পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে ইমাম আশরাফ দ্বিতীয়বার মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্যসচিব মাসুদ রুমী মিথুনসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
মোনাজাত শেষে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা স্থান ত্যাগ করার সময় বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাখা সমন্বয়ক এস এম সুইটের সঙ্গে উপ-উপাচার্যের বাগবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার পর প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ফের হট্টগোল ও বাগবিতণ্ডা হয়।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘মোনাজাতে শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করা ইচ্ছাকৃত ভুল বলে মনে করছি।
এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইমাম কখনোই তার নাম নিতে ভোলেননি। আমরা মনে করছি, উদযাপন কমিটি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তেই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করে আসছি। তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মোনাজাতের সময় ইমাম সাহেব অনিচ্ছাকৃতভাবে শহীদ জিয়ার নাম উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন। পরবর্তীতে ছাত্রদল জানানোর পর তিনি ভুল স্বীকার করে পুনরায় মোনাজাত করেন। আমরাও সেই মোনাজাতে অংশ নিয়েছি।’
উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এয়াকুব আলী বলেন, ‘দোয়ার পূর্বেই আমি খতিবকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্য দোয়া করার কথা বলেছিলাম। যেকোনো কারণেই হোক, তিনি হয়তো ভুলে গেছেন। মানুষের ভুল হতেই পারে। এ নিয়ে অতিরিক্ত হৈচৈ করার কিছু নেই।’
এমআই/টিকে