© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চীনের ‘জবরদস্তি’র বিরুদ্ধে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা

শেয়ার করুন:
চীনের ‘জবরদস্তি’র বিরুদ্ধে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:০২ পিএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নির্বাচনের পর প্রথম ভাষণেই চীনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বেইজিংয়ের বাড়তে থাকা ‘জবরদস্তি’র বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা কৌশল পাল্টানোর ঘোষণা দেন তিনি।

এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশে নেয়ার অঙ্গীকারও করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান বর্তমানে নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠিন সময় পার করছে বলেও জানান তাকাইচি।

গত বছরের অক্টোবরে জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন সানায়ে তাকাইচি। এরপর নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে তার এক মন্তব্যে চীনের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েন বাড়ে।

তাকাইচি বলেছিলেন, তাইওয়ানে চীনা হামলা হলে তা জাপানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি, সেক্ষেত্রে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারে টোকিও। তার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় বেইজিং।

দায়িত্ব নেয়ার চার মাস পর গত জানুয়ারিতে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তাকাইচি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় জয় পায় তাকাইচির দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।

ঐতিহাসিক জয়ের ১০ দিন পর গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তাকাইচি। নির্বাচনের পর স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) পার্লামেন্টে প্রথম ভাষণ দেন তিনি। ভাষণে চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্ব এবং বেইজিংয়ের বাড়তে থাকা সামরিক তৎপরতা নিয়ে সরব হন তাকাইচি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এখনই জাপান সবচেয়ে জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি। পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সক্রিয়তা এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ জানান তিনি। এছাড়া প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় রদবদলের ইঙ্গিত দেন তাকাইচি।

২০২৭ সালের আগেই চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করেছেন জাপান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির বিধিনিষেধ শিথিলের প্রস্তাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। এতে ট্যাংক বা কামানের মতো অস্ত্র বিদেশে বিক্রির সুযোগ পেতে পারে জাপানি কোম্পানিগুলো।

গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়াতে নিজের নেতৃত্বে ‘জাতীয় গোয়েন্দা কাউন্সিল’ গঠনের পরিকল্পনারও ঘোষণা করেন জাপান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চীনের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বিরল খনিজ ও কাঁচামাল নিশ্চিত করার কৌশল নেন। ২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয়-এর পর বন্ধ থাকা পারমাণবিক চুল্লি দ্রুত চালুর কথাও জানান সানায়ে তাকাইচি।

সূত্র: রয়টার্স

এমআর/টিকে 

মন্তব্য করুন