© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পুরো মধ্যপ্রাচ্য দখলের ‘অধিকার’ ইসরায়েলের আছে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

শেয়ার করুন:
পুরো মধ্যপ্রাচ্য দখলের ‘অধিকার’ ইসরায়েলের আছে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০১ পিএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অথবা অন্তত এর সিংহভাগ দখল করার ‘বাইবেলসম্মত অধিকার’ ইসরায়েলের রয়েছে। পডকাস্টার টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ওই মন্তব্য করেছেন বলে শুক্রবার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে কার্লসনের সঙ্গে আলাপকালে হাকাবি বলেন, ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌তারা (ইসরায়েল) যদি পুরোটা নিয়েও নেয়, তাতেও সমস্যা নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়োগকৃত কর্মকর্তা ও আরকানসাসের সাবেক গভর্নর হাকাবি সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে ওল্ড টেস্টামেন্ট শাস্ত্রের ব্যাখ্যা নিয়েও আলোচনা করেন।

ইসরায়েলের তেল আবিব বিমানবন্দরে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল সম্প্রতি দাবি করেছিলেন কার্লসন। যদিও তার সেই দাবি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। হাকাবির সঙ্গে আলাপকালে বাইবেলের একটি আয়াতের কথাও তোলেন তিনি।

ওই আয়াতে বলা হয়েছে, ঈশ্বর ইব্রাহিমকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তার বংশধররা ‌‌মিসরের নদী থেকে শুরু করে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত-কেনীয়, কেনিজ্জীয়, কদমোনীয়, হিত্তীয়, পেরিজ্জীয়, রেফায়ীয়, আমোরীয়, কানানীয়, গিরগাশীয় ও জেবুসীয়দের ভূমি লাভ করবে।

কার্লসন বলেন, আধুনিক ভূগোল অনুযায়ী ওই এলাকা প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যকেই অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি বলেন, লেভান্ট অঞ্চল... ইসরায়েল, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন-এ ছাড়া সৌদি আরব ও ইরাকের বড় অংশও এতে পড়বে।

জবাবে হাকাবি বলেন, এটি এত দূর পর্যন্ত যাবে কি না তা আমি নিশ্চিত নই। তবে এটি বিশাল এক ভূখণ্ড হবে। তিনি বলেন, ইসরায়েল এমন এক ভূখণ্ড, যা সৃষ্টিকর্তা ইব্রাহিমের মাধ্যমে তার নির্বাচিত এক জনগোষ্ঠীকে দিয়েছেন। এখানে ছিল একটি জনগোষ্ঠী, একটি স্থান এবং একটি উদ্দেশ্য।

এ সময় কার্লসন জোর দিয়ে জানতে চান, ওই ভূমির ওপর ইসরায়েলের অধিকার আছে কি না? জবাবে হাকাবি বলেন, ‌‌‌‌তারা যদি পুরোটা নিয়ে নেয়, সেটাই হবে সুন্দর।

ইসরায়েল সফরে গিয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ‘উদ্ভট’ আচরণের শিকার হয়েছেন বলে কার্লসন দাবি করেছিলেন। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনি কেবল নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়েই গিয়েছিলেন। সেই সফরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাকাবির সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন কার্লসন।

সম্প্রতি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কার্লসন; যা তাকে ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলনের মূলধারা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, হাকাবি যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থী ঐতিহ্যবাহী রক্ষণশীল অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেন।

তেল আবিবে ‘অস্বাভাবিক আচরণের’ অভিযোগ প্রকাশের পর ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছিলেন, ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক কার্লসন কিছুটা ভীরু।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেনেট বলেন, ‌‌পরের বার তিনি যখন নিজেকে ইসরায়েল বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করবেন, তখন সবাই শুধু মনে রাখবেন, এই লোকটি ভুয়া!

হাকাবি নিজেও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইসরায়েলে (এবং আসলে যেকোনও দেশেই) যারা যাতায়াত করেন, সবারই পাসপোর্ট পরীক্ষা করা হয় এবং নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশি করা হয়। ইসরায়েলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বুধবার এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, টাকার কার্লসন ও তার সফরসঙ্গীদের আটক, বিলম্বিত বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

এমআই/টিকে 

মন্তব্য করুন