সেহরিতে কী খেলে সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থাকে না?
ছবি: সংগৃহীত
১০:১১ পিএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পবিত্র রমজানে সেহরির গুরুত্ব অপরিসীম। সেহরি খাওয়া শুধু সুন্নত নয়, এটি রোজাদারের শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত দীর্ঘ সময় কোনো খাবার বা পানির ব্যবহার সম্ভব নয়। তাই সেহরির খাবার পরিকল্পিত ও স্বাস্থ্যকর হওয়া জরুরি, যাতে সারাদিন শরীর শক্তি ও পুষ্টিতে সুষম থাকে।
অনেকে সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা কমানোর জন্য অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করেন, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরির খাবারে এমন উপাদান থাকা উচিত যা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় শরীরকে শক্তি ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
সেহরির জন্য উপযোগী খাবার
১. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
মাছ, মুরগির চর্বিহীন মাংস, ডিম ও দই— এগুলো ধীরে শক্তি শোষণ করে এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা অনুভব হওয়া রোধ করে।
২. ফাইবার ও পূর্ণ শস্য
লাল চাল, ওটস, লাল আটার রুটি— এগুলো হজম প্রক্রিয়া ধীর করে এবং দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখে।
৩. স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
বাদাম, তিসি বীজ, চিয়া সিড- শরীর দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখে।
৪. ফল ও সবজি
কলার মতো পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল, তরমুজের মতো পানি সমৃদ্ধ ফল, আপেল, কমলা, পেঁপে— ভিটামিন, মিনারেল ও পানি সরবরাহ করে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
৫. প্রাকৃতিক ফাইবার ও ইসবগুল
ইসবগুলের ভুসি পানি শোষণ করে পেট পূর্ণ রাখে এবং ক্ষুধা কমায়।
৬. কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট
ভাতের মধ্যে থাকা জটিল শর্করা ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।
৭. পর্যাপ্ত পানি পান
সেহরির সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। খাবার শুরুর আগে এক গ্লাস পানি পান করুন এবং সেহরি ও ইফতারের মধ্যবর্তী সময়ে নিয়মিত পানি পান করুন।
৮. সুন্নতি খাবার খেজুর
সেহরিতে ১–২টি খেজুর খাওয়া উত্তম। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফ্রুক্টোজ রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৯. দুগ্ধজাত খাবার
দুধ ও দই ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। দই পেটে থাকা খাবার ধীরে হজম হতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা কমায়।
১০. পুষ্টিকর স্যুপ
সেহরি বা ইফতার শুরু করতে পারেন হালকা ও পুষ্টিকর স্যুপ দিয়ে। এটি শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সঠিকভাবে সেহরি খেলে সারাদিন রোজাদারের শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকে। প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফল, সবজি ও পর্যাপ্ত পানি এই সমন্বয় রোজার সময় ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই সেহরিকে শুধু সুন্নত নয়, বরং সারাদিন শক্তি ও পুষ্টি ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
এমকে/টিকে