নিজ কর্মস্থলে ফিরলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩৪ পিএম | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১৮ মাসের বিরতির পর নিজ কর্মস্থলে ফিরেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি ঢাকার মিরপুরের টেলিকম ভবনে অবস্থিত ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। উপস্থিতরা তার দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতি ও সমন্বিত নেতৃত্বের জন্য অভাব বোধ করছিলেন।
ড. ইউনূস কর্মস্থলে ফিরে প্রথমে সেন্টারের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও কর্মীদের সঙ্গে স্বাগত পরিচিতি বিনিময় করেন। এরপর তিনি গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ইউনূস সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপদেষ্টা দলের সঙ্গে একটি বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে তিনি সংস্থার চলমান কার্যক্রম, প্রজেক্টগুলোর অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৮ মাসের বিরতির সময় ইউনূস সেন্টারের কিছু প্রজেক্ট ও পরিকল্পনা স্থগিত বা সীমিত আকারে পরিচালিত হয়েছিল। তার প্রত্যাবর্তনের ফলে সংস্থার কার্যক্রম পুনরায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার আশা জাগছে। উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গ্রামীণ পরিবারের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ক্ষুদ্রঋণ, এবং সামাজিক উদ্যোগগুলো আরও গতিশীল হবে।
ড. ইউনূস সেন্টারে ফিরে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কার্যক্রমই জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা আমাদের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা এবং সময়মতো বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই আমাদের সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে।”
সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের উপস্থিতি সেন্টারের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্রঋণ, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগে তার দিকনির্দেশনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। কর্মীরা আশা প্রকাশ করেন যে ড. ইউনূসের পুনরায় নেতৃত্বে ইউনূস সেন্টার নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বৈঠকের শেষে ড. ইউনূস সেন্টারের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি কর্মকর্তা ও কর্মীদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও সমস্যা সমাধান সংক্রান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। উপস্থিতরা জানান, তার উপস্থিতি সংস্থার মনোবল বৃদ্ধি করেছে এবং আগামি দিনগুলোতে উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হবে।
ড. ইউনূসের প্রত্যাবর্তন শুধু ইউনূস সেন্টারকেই নয়, গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন সামাজিক ও আর্থিক উদ্যোগকেও নতুন শক্তি যোগ করেছে। কর্মকর্তারা জানান, এই পুনরায় নেতৃত্বের ফলে চলমান প্রকল্পগুলো ত্বরান্বিত হবে এবং নতুন উদ্যোগের জন্যও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।
এবি/টিএ