© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রংপুরে নির্বাচন নিয়ে আখতার-ভরসার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

শেয়ার করুন:
রংপুরে নির্বাচন নিয়ে আখতার-ভরসার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:১৮ পিএম | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রংপুরে গাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও হুমকির অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তাত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছ পৌর এলাকা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। নির্বাচনে জয়ী এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেন ও পরাজিত বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আখতার হোসেন। 

এর আগে ভোররাতে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে দাবি করেন, হারাগাছ এলাকায় পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এনসিপির নেতাকর্মীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

গাড়ির গ্লাস ভাঙচুরের ঘটনায় এনসিপিকে দায়ী করে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আখতার হোসেন জানান, এমদাদুল হক ভরসার ব্যক্তিগত সহকারী একটি ভিডিও থাকার কথা বললেও সেটি প্রকাশ করা হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। তিনি বলেন, ‌‘ভিডিওতে যদি এনসিপির কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে গ্রেপ্তার করা হোক-আমি নিজেই ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছি। কিন্তু ভিডিও আসেনি, ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ও সারারাত পার হওয়ার পর ফল ঘোষণা করা হয় এবং তিনি বিজয়ী হন। সে সময় ভরসা প্রকাশ্যে কোনো কারচুপি বা অনিয়মের অভিযোগ তোলেননি বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, আগে থেকেই হারাগাছ ঘিরে অনিয়মের একটি পরিকল্পনা ছিল, যদিও প্রকাশ্যে সুষ্ঠু ভোটের কথাই বলা হয়েছিল।
আখতার হোসেন দাবি করেন, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে শুরুতে সহিংসতা হয়নি।

তবে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারে-এমন আভাস ছড়ানোর পর হারাগাছে ‘ভরসা বাহিনী’ বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এনসিপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলার অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচনের ১০ দিন পার হলেও অনেক নেতাকর্মী ও তাদের পরিবার বাড়িতে ফিরতে পারেননি বলেও জানান।

ভোটের হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, হারাগাছে প্রায় ৫৫ হাজার ভোটের মধ্যে ভরসা পেয়েছেন ২৭ হাজার এবং তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ভোট। তার অভিযোগ, কাস্টিং ভোটের বাইরে আরও ১৫-২০ হাজার ভোট বাড়িয়ে দেখানোর পরিকল্পনা ছিল, যা কয়েকজনের সহযোগিতায় প্রতিহত করা হয়েছে।

এ কারণে এনসিপি সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

হারাগাছ সফর প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, তার আগমনের খবর পেয়ে ভরসা পক্ষ হরতালের ডাক দেয় এবং দোকান বন্ধ রাখার জন্য মাইকিং করা হয়। পরে হরতাল প্রত্যাহার করা হলেও বিক্ষোভের ঘোষণা দেওয়া হয়। 

তিনি আরো জানান, ভাঙচুরের শিকার বাড়িঘর পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতেই তিনি সফরে যাচ্ছেন। গত দেড় বছরে হারাগাছ পৌরসভার জন্য তিন দফায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ এনেছেন। সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় করলে বেশি মানুষের উপকার হবে, তা জানতে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলেও জানান।

এসময় তিনি তার সফরকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায় ভরসা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিতে হবে বলে সতর্ক করেন।

অন্যদিকে আখতার হোসেনের অভিযোগ অস্বীকার করে এমদাদুল হক ভরসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানান, তিনি অসুস্থতার কারণে পরিবারসহ ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং হারাগাছে তার কোনো কর্মসূচি নেই। তার নাম ব্যবহার করে প্রচারিত বক্তব্য মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।

ভরসা বলেন, ‘রংপুর-৪-এর মানুষ এই নির্বাচনের বাস্তবতা জানে। জনগণই এর সাক্ষী।’ 

তিনি জানান, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পান ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়।

হারাগাছকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের ভূমিকা ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন তাকিয়ে আছেন স্থানীয়রা।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন