শুটিং আর পড়াশোনা সামলে নজির গড়লেন অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায়!
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৫১ পিএম | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ছোট বয়সেই আলোয় এসে পড়েছিলেন দিতিপ্রিয়া রায়। ধারাবাহিকের সেটই ছিল তাঁর বড় হওয়ার জায়গা। একদিকে টানা শুটিং, অন্যদিকে নিয়মিত পড়াশোনা এই দুই সামলে অবশেষে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেন তিনি। সাফল্যের এই মুহূর্তে ফিরে দেখলেন দীর্ঘ পথচলা, আর অকপটে স্বীকার করলেন, অপমানই তাঁকে এগিয়ে দিয়েছে।
খুব অল্প বয়সে ধারাবাহিক দুর্গা দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ। প্রথম কাজ থেকেই নজর কাড়েন। এরপর একে একে ছোটপর্দায় জনপ্রিয়তা পায় অপরাজিত, তোমায় আমায় মিলে, মা, ব্যোমকেশ ও বামাক্ষ্যাপার মতো ধারাবাহিক। তবে কেন্দ্রীয় চরিত্রে বড় সাফল্য আসে রাণী রাসমণিতে। বড়পর্দায় প্রথম কাজ রাজকাহিনী। পরে আয় খুকু আয় ও বব বিশ্বাস-এর মতো ছবিতেও দেখা গেছে তাঁকে।
তবে ক্যামেরার ঝলকানির আড়ালে চলছিল আর এক লড়াই। দিনের পর দিন একাধিক শিফটে শুটিং সেরে বই খুলে বসা সহজ ছিল না। স্টুডিয়োর কোলাহলের মধ্যেও মন বসিয়ে পড়তে হয়েছে। দিতিপ্রিয়া জানালেন, ছোট থেকেই শুনতে হয়েছে তিনি নাকি মাধ্যমিকই পাস করতে পারবেন কি না সন্দেহ। সেই কথা গভীরভাবে বিঁধেছিল। অপমানকে শক্তি বানিয়ে ঠিক করেছিলেন, যা-ই হোক পড়াশোনা ছাড়বেন না। আজকের সাফল্যের পেছনে সেই জেদই বড় চালিকাশক্তি।

এই পথচলায় পাশে ছিলেন তাঁর মা, শিক্ষিকা ও অধ্যাপকেরা। ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের চাপ থাকায় জোর করে পড়তে বসানো হয়নি তাঁকে। বরং সহযোগিতা ও বোঝাপড়াই ছিল মূল ভরসা। সহকর্মীদের মধ্যেও অনেকে সাহস জুগিয়েছেন।
শৈশব কতটা উপভোগ করতে পেরেছেন? অভিনেত্রীর কথায়, খেলাধুলা করেছেন, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, তবে ঘুমটাই ছিল সবচেয়ে কম। অন্যদের মতো নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ খুব একটা মেলেনি।
এবার কী? শুধুই অভিনয়, না কি আরও পড়াশোনা? দিতিপ্রিয়ার স্বপ্ন, সমাজবিজ্ঞানে যে বিষয়গুলি তাঁকে নাড়া দিয়েছে, সেগুলি একদিন বই আকারে প্রকাশ করবেন। সেখানে থাকবে তাঁর অভিজ্ঞতার কথাও। অভিনয় চলবে সমানতালে। তাঁর বিশ্বাস, মন থেকে কিছু চাইলে বিশ্বজগৎও পাশে দাঁড়ায়। অপমানের আগুনেই গড়ে ওঠা এই সাফল্য তাই তাঁর কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে।
এমকে/টিএ