বার্সেলোনা থেকে মেসির বিদায় নিয়ে লাপোর্তার কড়া স্বীকারোক্তি
ছবি: সংগৃহীত
১১:৫৬ পিএম | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
লিওনেল মেসির বার্সেলোনা ত্যাগ ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় বিয়োগান্তক অধ্যায়। কাতালান ক্লাবটির অগণিত ভক্তের কাছে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম তারকার এই প্রস্থান আজও এক দুঃসহ স্মৃতির মতো। কেন বার্সা তাদের সেরা সম্পদকে ধরে রাখতে পারল না, তা নিয়ে ফুটবল মহলে নানা আলোচনা চললেও সম্প্রতি এ বিষয়ে নতুন করে আলোকপাত করেছেন ক্লাবের বর্তমান প্রধান হোয়ান লাপোর্তা। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন মেসির বিদায়ের নেপথ্য কাহিনী এবং কেন বর্তমানে তাদের পারস্পরিক সম্পর্কে তিক্ততা দানা বেঁধেছে।
লাপোর্তার মতে, ক্লাবকে বাঁচাতেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি বলেন: “আমরা মেসিকে স্বাক্ষরের জন্য সিভিসি (CVC) চুক্তিতে সই করতে চাইনি, কারণ আমরা মনে করেছি এটি ক্লাবের জন্য ক্ষতিকর। কোনো খেলোয়াড়, কর্মকর্তা বা প্রেসিডেন্ট—বার্সা সবার উপরে। এটিই প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের মুহূর্ত।”
তিনি আরও জানান যে, মেসির চুক্তি নবায়ন করলে সেই পরিমাণ অর্থ প্রদান করা ক্লাবের জন্য অসম্ভব ছিল। কুমান, জাভি বা পিকে-র বিদায়ে তিনি যেমন মর্মাহত হয়েছিলেন, মেসির বিদায়কেও তেমনই একটি ‘হতাশাজনক মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন তিনি।
লাপোর্তা সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, মেসির সাথে তার সম্পর্ক আগের মতো নেই। তিনি ২০২৩ সালের ব্যালন ডি'অর অনুষ্ঠানের একটি অপ্রীতিকর ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, “মেসির সাথে সম্পর্ক এখন আর আগের মতো নেই। ব্যালন ডি'অর অনুষ্ঠানে আমি তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু সে অনুভব করেছিল যে আমাদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের কোনো প্রয়োজন নেই। এরপর থেকে কিছুটা কাছাকাছি আসার চেষ্টা হয়েছে, আশা করি ভবিষ্যতে তা বজায় থাকবে।”
মেসি ২০২১ সালে পিএসজিতে যাওয়ার পর মাত্র একবার রাতে ক্যাম্প ন্যু পরিদর্শনে এসেছিলেন, যা তাদের সম্পর্কের দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে। লাপোর্তার এই ব্যাখ্যার বিপরীতে অন্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরা তীব্র সমালোচনা করেছেন।
জাভিয়ের ভিলাজুয়ানা দাবি করেন, ২০২১ সালের ৩০ জুনের আগে চুক্তি নবায়ন না করাটা ছিল একটি বড় গাফিলতি। তিনি বলেন, “মেসিকে নবায়ন করা সম্ভব ছিল। ৩০ জুনের পর সে নতুন সাইনিং হিসেবে গণ্য হয়, যা নিয়মগুলোকে কঠিন করে দেয়।”
ভিক্টর ফন্ট ও মার্ক সিরিয়ার মতে, লাপোর্তা পুনরায় নির্বাচিত হলে মেসি আরও অন্তত ৬ বছর ক্লাব থেকে দূরে থাকবেন। মার্ক সিরিয়া তো মেসির আইকনিক সেলিব্রেশনের ছবি দিয়ে শহরে বড় ব্যানারও টাঙিয়েছেন।
সম্পর্ক শীতল থাকলেও মেসির প্রতি সম্মান জানাতে কার্পণ্য করতে চান না লাপোর্তা। তিনি ঘোষণা করেছেন, ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ শেষ হলে সেখানে মেসির একটি মূর্তি স্থাপন করা হবে।
কুবালা ও ইয়োহান ক্রুইফের পাশে মেসির মূর্তি থাকাটা ক্লাব ইতিহাসের অংশ হিসেবে তিনি ‘ন্যায্য’ মনে করেন। ২০২৮ সালে মেসির ইন্টার মায়ামির সাথে চুক্তি শেষ হলে তাকে একটি বিশাল সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসএস/টিএ