অনলাইন জুয়ার অন্যতম হোতা ও সাইবার মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
১১:৫৫ এএম | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মেহেরপুরে সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের হওয়া জেলার প্রথম মামলার অন্যতম আসামি ও জেলাব্যাপী অনলাইন ক্যাসিনো কারবার ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত মুকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী। গ্রেপ্তার কোমরপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে।
ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি কার্যকর হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর আওতায় মেহেরপুর জেলায় দায়ের হওয়া প্রথম মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন মুকুল ইসলাম। ওই মামলায় মোট ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছিল।
মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘সাইবার আইনে দায়ের হওয়া মামলার পলাতক আসামি হিসেবেই মূলত মুকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময় জব্দ করা মোবাইল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া বা অবৈধ লেনদেনের কোনো ট্রেস পাওয়া গেলে নতুন আরেকটি মামলা দায়ের করা হবে। অন্যথায় বিদ্যমান মামলায়ই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’
সাইবার মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুজিবনগর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরো ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর ২০(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
নথিতে উল্লেখ করা হয়, চক্রটি মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ আশপাশের এলাকায় অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-লেনদেনের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে তারা দেশি-বিদেশি অর্থপাচারে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেনের পাশাপাশি ফেসবুক ও টেলিগ্রাম গ্রুপে দ্রুত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মেহেরপুর জেলায় অনলাইন জুয়া ছড়িয়ে পড়ার পেছনে যাদের নাম আলোচিত, মুকুল ইসলাম তাদের মধ্যে অন্যতম। শুধু মেহেরপুর নয়, বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনোর শুরুর দিকেই গুটিকয়েক ব্যক্তির মধ্যে তিনিও একজন এজেন্ট হিসেবে যুক্ত হন।
করোনাকালে অনলাইন জুয়াড়িদের হাতেখড়ি দিতেন তিনি। নুরুল মাস্টার ও জামান মাস্টারের অর্থায়ন ও এজেন্ট সিম ব্যবহার করে মুকুল এবং ওয়াসিম হালদার মেহেরপুর জেলায় প্রথম অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্টশিপ পরিচালনা শুরু করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মুকুল নিজেই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়লে নুরুল ও জামান তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট চ্যানেল দেওয়ার নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, ‘অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্টদের বিষয়ে মেহেরপুর জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। চিহ্নিত অপরাধীদের ধরতে জেলাব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
আরআই/টিকে