তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : চিফ প্রসিকিউটর
ছবি: সংগৃহীত
০১:০২ এএম | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, প্রসিকিউটররা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি একথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন,‘আমার দায়িত্ব পালনকালে কোনো প্রসিকিউটর কিংবা অন্য কেউ কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রমাণ করে দেবো এই ট্রাইব্যুনাল পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত। এখানে আন্তর্জাতিক মানের বিচার চলবে। এর বাইরে অন্য কোনো আলোচনা আমরা প্রশ্রয় দেবো না।’
গত সোমবার চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো.আমিনুল ইসলামকে। ওই দিনই তাজুল ইসলামের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি।
চব্বিশের গণ-আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। এরপর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলামকে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত বিএনপি সরকার এ নিয়োগ বাতিল করল। নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগের গুঞ্জনের মধ্যে বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ নামের এক ব্যক্তি সোমবার সকালে ‘ট্রাইব্যুনালে সেটলিং বাণিজ্য ও রাজসাক্ষী নাটক: কেন সরতে হচ্ছে তাজুল ইসলামকে? শিরোনামে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্টে দুটি মন্তব্য করেন প্রসিকিউশন দলেরই আরেক সদস্য বি এম সুলতান মাহমুদ। একটি মন্তব্যে প্রসিকিউটর মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে সুলতান মাহমুদ লেখেন,‘গত বছর নভেম্বরের শেষ দিকে আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলার আসামি আফজালের বউ সন্ধ্যার দিকে ভারী ব্যাগ নিয়ে তামিমের (গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম) রুমে প্রবেশ করে।
বিষয়টি আমরা দেখার পরে সঙ্গে সঙ্গে তাজুল ইসলামের (সাবেক প্রধান কৌঁসুলি) রুমে গিয়ে তাকে জানাই। এই ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি,বরং উল্টো আমাদের বকাঝকা করে।
তামিম তখন সবার সামনে স্বীকার গিয়েছিল হ্যাঁ আফজালের বউ তার রুমে এসেছিল। চিফ প্রসিকিউটর শুধু জিজ্ঞেস করেছিলেন আসামির বউ কেন তার রুমে গিয়েছিল। শুধু এই জিজ্ঞাসা করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে সেই আফজালকে রাজসাক্ষী করা হলো। চূড়ান্ত বিচারে তাকে খালাস দেয়া হলো।’
আরেকটি মন্তব্যে প্রসিকিউটর তিনি লেখেন, ‘শুধু আইজি মামুন নয়, আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলায় টাকার বিনিময়ে আফজালকেও রাজসাক্ষী করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিন–চারজনের একটি সিন্ডিকেট শুরু থেকেই এই চক্রে জড়িত। চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে টাকা কামানোর হাতিয়ার হিসেবে তৈরি করে রেখেছে এই তাজুল সিন্ডিকেট।’
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে নতুন চিফ প্রসিকিউটরের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখানে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। সব ধরনের মামলার বিষয়বস্তু বুঝতে হবে। যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেসবও তদন্ত করে দেখতে হবে। এরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।’
ট্রাইব্যুনালের বিচারে প্রসিকিউশনের ভূমিকা নিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই একেবারেই আইন অনুযায়ী এই ট্রাইব্যুনাল পরিচালিত হোক। গতি বাড়ার সঙ্গে আরও স্বচ্ছতা বাড়ুক, সেটাই আমরা চাই। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী মামলাগুলোর বিচার যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, সেসব বিষয়ে আলোচনা করেছি প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে। আশা করছি, খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।’
বিচারাধীন মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে ২৪টি মামলার ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি মামলার ট্রায়াল চলছে দুটি ট্রাইব্যুনালে। যদিও এ মামলাগুলোর বিষয়বস্তু এখনও দেখিনি। এজন্য সবগুলো আমার কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যদি মনে হয় তদন্ত যথাযথ হয়নি, কিংবা কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে, তাহলে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
অপরাধীকে টার্গেট করে তদন্ত ও বিচার করা হবে।’ পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ মানুষ কিংবা কাউকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করে, এমন কার্যক্রম না চালানোরও আশ্বাস দেন আমিনুল ইসলাম।
এমআর/টিকে