© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

২৫ বছরে পুরুষের ‘ফ্যান্টাসি’ বদলেছে, নিজেকে না বদলে আমি কেন আগের মতো থাকব: স্বস্তিকা

শেয়ার করুন:
২৫ বছরে পুরুষের ‘ফ্যান্টাসি’ বদলেছে, নিজেকে না বদলে আমি কেন আগের মতো থাকব: স্বস্তিকা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:২৫ পিএম | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সাদা সালোয়ার কামিজ-রামধনু ওড়না। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। এখনও গজদাঁতে ঝিলিক তুলে মিষ্টি হাসলে, পুরুষের বুকে ঢেউ ভাঙে। কব্জিতে মেয়ের ডাক নাম ‘মানি’ উল্কি করা। পরিচালক শৌর্য দেবের ‘ প্রমোটার বৌদি’ থেকে একমাত্র কন্যা অন্বেষার প্রেম- মুখোমুখি আড্ডায় কিচ্ছু বাদ দিলেন না!

প্রশ্ন: বসন্তকালে ‘প্রমোটার বৌদি’...

স্বস্তিকা: (হেসে ফেলে) আমার সঙ্গে ‘বৌদি’ শব্দটার যোগাযোগ আছে। অনেক কাজ করেছি যেখানে আমায় ‘বৌদি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। সংসারে ভাই থাকলে বৌদি সম্বোধন থাকবেই। ইন্ডাস্ট্রিতে ২৫ বছর হয়ে গেল। একরকম কাজ করে গেলে লোকে কেন আমায় দেখবে? তাই ভাবলাম, ‘প্রমোটার বৌদি’ হতে পারি কি না। একটা ভোজপুরি গানে নাচতে পারি কি না দেখি। ‘পারি কি না দেখি’ করতে গিয়েই এই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। আরও একটা ব্যাপার আছে...।

প্রশ্ন: কী সেটা?
স্বস্তিকা: সিরিজ় ‘কালীপটকা’র শ্রীমা বা এই ছবিতে আমার যা পেশা, সেটা মেয়েরা করেনই না। সিরিজ়ে ট্যানারিতে কাজ করতে দেখা গিয়েছে আমায়। এ বার আমি প্রমোটার। যে কাজ সাধারণত মেয়েরা করেন না, পর্দায় সেই কাজ করতে পারাটাও কিন্তু অনেক। তার পর পরিচালক শৌর্য দেব জানালেন, তিনি বাস্তবে একজন ‘প্রমোটার বৌদি’র খোঁজ পেয়েছেন। শুনে খুব আনন্দ হয়েছিল। জানেন, এই চরিত্র করতে গিয়ে কী কী করেছি?

প্রশ্ন: ট্রেলার বলছে, আপনি নেচেছেন। সম্ভবত অ্যাকশনও করেছেন...
স্বস্তিকা: আমাদের ‘শোলে’র মতো একটা বাইক ছিল। ছোটবেলায় কর্মাশিয়াল ছবিতে হিরোদের যে ভাবে এন্ট্রি হয়, পা-টা পড়ে। ধুলো ওড়ে। হিরো হেঁটে আসছে। পায়রা উড়ছে। বেশ একটা কেত থাকে। ছবিতে আমি এ সব প্রচুর কেত মেরেছি (হাসি)। গাড়ি থেকে নামছি। বেশ একটা ‘ডন’ ‘ডন’ ব্যাপার। পুরো এলাকা কাঁপায়। এটা আমার বেশ লেগেছে।

প্রশ্ন: একটি মিলও আছে। বাস্তবে স্বস্তিকা পথপশুদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন। পর্দায় ফুটপাতবাসীদের...
স্বস্তিকা: ছবিতে আমার নাম কী জানেন? নাম শান্তি, পদবি দে! জুড়ে হয় শান্তি দে (বলেই হা হা হাসি)। আমরা যা অহরহ বলে থাকি যে, ‘একটু শান্তি দে’! (নিজেকে সামলে নিয়ে) পর্দায় শান্তি দিতে পেরেছি কি না জানি না, তবে অনেক মানুষ অনেক কষ্ট করে উপার্জনের টাকা প্রমোটারের হাতে তুলে দেন, পাকা বাড়ির আশায়। সেটা সব সময় পূরণ হয় না। নানা কারণে, নানা জটিলতায় মাঝপথে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ করে দেওয়া হয়। ‘প্রমোটার বৌদি’ সেটা হতে দেয় না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের হয়ে লড়ে। এই ইতিবাচক বার্তা কিন্তু কখনও জ্ঞান দেওয়ার মতো করে দেখাননি পরিচালক। বরং মজার মোড়কে মুড়ে সুন্দর করে পরিবেশন করেছেন। তা ছাড়া, ছবিটি তথাকথিত সমান্তরাল ছবি নয়। আগের মতো কমার্শিয়াল ছবি। প্রভাত রায়, হরনাথ চক্রবর্তী, বীরেশ চট্টোপাধ্যায় যেমন ছবি বানাতেন, এই ছবি সেই ঘরানার।



প্রশ্ন: এখন ছবি হিট করাতে নামী প্রযোজক-পরিচালক, তারকাদের প্রয়োজন। এখানে একঝাঁক অভিনেতার সঙ্গে স্বস্তিকা। আর নতুন পরিচালক শৌর্য...
স্বস্তিকা: (একটু থেমে) এটা গত ১০ বছর ধরে ঘটে চলেছে। আমি তো নতুন পরিচালক, প্রযোজক, কাঁধে অনেকটা দায়িত্ব নিয়েই পথ চলছি। গোটা কেরিয়ার দেখলে সেটাই প্রমাণিত হবে। নতুনরা পুরনো হয়ে যাওয়ার পরেও কাজ করেছি।

প্রশ্ন: এটা আপনার ভেবেচিন্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত?
স্বস্তিকা: দেখুন, ভেবেচিন্তে কখনওই কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। এটা বলতে পারেন, ভেবেচিন্তে ঠিক করেছি, শুধুই নামী পরিচালক, প্রযোজক, বড় হাউস বা তারকাদের সঙ্গেই কাজ করব না। আমার কাছে তাই নতুন পরিচালকেরা চিত্রনাট্য পাঠান। আমি খুব দ্রুত সেটা পড়ে ফেলি। তার পর কথা বলে সিদ্ধান্ত নিই। এত কিছুর মধ্যে একটা জিনিস খেয়াল রাখি। পরিচালক নতুন হলেও সমস্যা নেই। তাঁর টিম যেন ‘নবিশ’ না হয়। তা হলে হয় ছবিই হবে না, নয়তো মাঝপথে আটকে যাবে।

প্রশ্ন: এই যে আপনি আবার চেনা ছন্দে ফিরছেন, এই স্বস্তিকাই তো দর্শকের বেশি চেনা। এ ভাবেই তো ‘তারকা’ নায়িকা হয়েছিলেন। অথচ, সেটা ধরে রাখলেন না!
স্বস্তিকা: একটা ছবিতে সবাই ‘ক্যারেক্টার আর্টিস্ট’। আমাকে ‘তারকা নায়িকা’র তকমা ধরে রাখতে হলে শুধুই হিরোর নায়িকা হয়ে কাটিয়ে দিতে হত। বিশ্বে কিন্তু ছবির ভাষা বদলেছে।
নারীকেন্দ্রিক ছবি বানানো হচ্ছে। সেখানে আমি কেন শুধু ‘হিরোদের হিরোইন’ হয়ে থাকব! আমার মধ্যে প্রতিভা থাকলে সেটা কাজে লাগাব না? এখন তো আমায় ভেবে লোকে গল্প লিখছেন, ছবি পরিচালনা করছেন। এটাই আমার ‘গ্রোথ’। তা ছাড়া, ২০ বছর আগে যে কাজ করতাম, সেই কাজ আজকাল আর হয় না। মূল ধারার ছবিও নারীকেন্দ্রিক হয়েছে। ‘হোটেল শাজাহান রিজেন্সি’, ‘জাতিস্মর’, ‘গুলদস্তা’ বা ‘শ্রীমতী’ হয়েছে। এগুলো তা হলে ছেড়ে দিতে হত। আসল কথা, নায়কদের ক্ষেত্রে হয়তো এখনও ‘স্টার’ বা ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ব্যাপারগুলো আছে। অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে আর সেটা নেই। দর্শক তাঁদের কাজ দেখতে ছবি দেখেন। কেউ ‘স্বপ্নের নায়িকা’ হিসাবে দেখতে চাইলে আমার ইনস্টাগ্রামে আসুন। সুন্দর সুন্দর ছবি দিয়েছি সেখানে। সময়ের সঙ্গে নিজেকে না বদলালে আমি হয়তো ২৫ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকতে পারতাম না (হাসি)।

প্রশ্ন: আগের মতো ছবি হচ্ছে না বলে ইন্ডাস্ট্রি তো পস্তাচ্ছে! বাণিজ্যসফল ছবি নেই। এটা নিয়ে কী বলবেন?
স্বস্তিকা: এটা একদমই ইন্ডাস্ট্রির ‘মাথা’দের বিষয়।

প্রশ্ন: আপনিও তো ২৫ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন...
স্বস্তিকা: অনেক বছর ধরে কাজ করলেও আমি ‘মাথা’ নই। ‘মাথা’দের নীচে আছি। কী ভাবে ছবি বানানো হবে বা ছবি বানানোর নিয়মকানুন কী, সেগুলো কখন রিলিজ করবে-এ সব ‘মাথা’রা ঠিক করছেন। ওঁদের কাছে আমি খুবই ক্ষুদ্র (হাসি)। আমি খালি মন দিয়ে কাজটা করতে চাই। ছবিমুক্তির পর যাতে সেটি ভাল ভাবে চলে, তার আপ্রাণ চেষ্টা করি। বাকিটা তো আমার হাতে নেই। (একটু থেমে) আর এত ঘোরপ্যাঁচ আছে বিষয়টির মধ্যে! ব্যক্তিগত জীবন সামলে, সংসার সামলে, কলকাতা-মুম্বই সামলে, কাজ সামলে ওই বিষয়ে মাথা গলানো অসম্ভব। বিশ্বাস করুন, অত সময়ও নেই। ইচ্ছাও নেই।

প্রশ্ন: ট্রেলার বলছে, ছবিতে পরিচালক অনেক রাজনৈতিক কথা ব্যঙ্গের মোড়কে মুড়েছেন। সাক্ষাৎকার দিতে বসে আপনিও ‘পলিটিক্যালি কারেক্ট’! তবু স্বস্তিকা রাজনীতিতে নেই!
স্বস্তিকা: (হা হা হেসে পরিচালকের উদ্দেশে) শৌর্য, ছবিতে রাজনৈতিক কথাবার্তা আছে নাকি? (হাসি থামিয়ে), জীবনেই তো অনেক রাজনীতি আছে। কাজের দুনিয়ায় রাজনীতি আছে। তার বাইরে গিয়ে আবার রাজনীতি! হ্যাঁ, আমার সহকর্মীরা রাজনীতিতে এসেছেন, আসছেন। এখন এই ট্রেন্ড এসেছে। ১০ বছর আগে সেটা কম ছিল। আর যত সমাজমাধ্যমের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে, তত দেখছি সবাই সব পারে। একজন মানুষ এখন ‘এ টু জ়েড’ পারেন। সমস্ত বিষয় নিয়ে মানুষের বক্তব্য থাকবে, সবাই সব পারবেন- এটা একটা ‘এক্সপেকটেশন’ তৈরি হয়ে গিয়েছে। আমি পারি না। পারতে চাইও না। রাজনীতি বুঝি না। আমার দ্বারা রাজনীতি হবে না। কমবেশি প্রায় সমস্ত দল থেকে নানা ভাবে ডাক পেয়েছি। পারব না বলেই সা়ড়া দিইনি। (মৃদু হেসে) স্বস্তিকা তাই রাজনীতিতে নেই। যেটা পারি, সেটাতেই আরও মনোযোগী হয়ে তাকে আরও নিখুঁত বানাতে চাই।

প্রশ্ন: সমাজমাধ্যমে আপনি যথেষ্ট সরব! সচেতন ভাবে নাকি উত্যক্ত বা বিরক্ত হয়ে?
স্বস্তিকা: উত্যক্ত হয়ে। ইদানীং, মানুষের সবেতেই সমস্যা, সবেতেই বক্তব্য! ভাল কিছুর মধ্যেও তাঁদের কুরুচিকর মন্তব্য থাকে। ভাবখানা যেন, ‘ছাড়ব না’! আলোর নীচে থাকা মানুষদের নিয়ে এঁদের আরও বেশি সমস্যা। আমরা যেন কারও না কারও ‘বাবা’র সম্পত্তি। সে জন্য সব সময়েই সব কিছু বলা যায়। এখন আমার যা বয়স, তাতে মনে হয়, কেউ যদি কাউকে গালাগালি দিতে চান তো পরিষ্কার করে দিন না! গালাগালির মধ্যে ‘স্টার মার্ক’ বা ‘পুটকি’ থাকবে কেন? ওইটুকু দম তো থাকতে হবে! তার উপরে একজন মেয়ে আর একজন মেয়েকে গালাগালি দিচ্ছে। এ সব দেখলে মাথাগরম হয়ে যায়। আরও সমস্যা আছে।



প্রশ্ন: যেমন?
স্বস্তিকা: দীর্ঘ সাক্ষাৎকার কেউ পড়েন না। পাঠক টানতে ‘ক্লিকবেট’ হেডিং হবে। পাঠক পুরোটা না পড়ে, না বুঝে সেই অংশটুকুতেই আটকে যাবেন। পোস্টে কিন্তু আমি একজন ঋষির নাম লিখে ক’জন তাঁর নাম জানেন, জানতে চেয়েছিলাম। সেটা কিন্তু কেউ দেখেননি।

প্রশ্ন: দিনের শেষে স্বস্তিকা ‘মা’ও! মেয়ে অন্বেষা আপনার মতোই সাহসী, প্রতিবাদী, চাঁচাছোলা হয়ে উঠুন- চান?
স্বস্তিকা: অন্বেষা নিজের মতোই হবে! (একটু ভেবে নিয়ে) এ ব্যাপারে আমার মেয়ে বোধহয় আমার থেকে একটু এগিয়েই আছে। ও যেখানে থাকে বা কাজ করে সেখানকার সংস্কৃতিই হল, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবন এবং ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সম্মান করা। ওরা জানে, কখন উঠে এসে বলতে নেই, ছবিটা তুলে নিই? আর খেতে হবে না। দুম করে কারও গায়ে দেওয়া যায় না। একজন মহিলাও চাইলে অন্য আর এক মহিলার গায়ে হাত দিতে পারেন না। আমাদের দেশে তো করে না! কিছু দিন আগে চশমা কিনতে গিয়েছি। বাইরে দাঁড়িয়েছিলাম। এক ভদ্রমহিলা এসে বললেন, আমায় তাঁর খুব ভাল লাগে। তার পরেই যাওয়ার সময় পেটের উপর দিয়ে হাত বুলিয়ে চলে গেলেন! আমার বন্ধু দেখে অবাক। বলল, “কিছু বললি না?” বললাম, সারা দিনে তা হলে কত বার বলতে হবে, ভাব! আর কত বার অশান্তি করতে হবে, সেটা গোন। বিদেশ এগুলো বোঝে। ওরা সেলফি তোলার আগে ডাকবে। না শুনতে পেলে পুরুষেরা নখ দিয়ে টোকা দেবেন। ওঁরা নখকে শরীরে বাইরের অংশ বলে মনে করেন। তাই আমার মেয়েকে এ সব নিয়ে বলতে হয় না। তবে ওর প্রেম নিয়ে আমার শহরের মানুষদের কিন্তু খুব মাথাব্যথা। ‘স্বস্তিকার মেয়ে লন্ডনে চুটিয়ে প্রেম করছেন’- এই শিরোনামে খবরও বেরিয়েছে সর্বত্র। প্রেমের পাশাপাশি অন্বেষা কিন্তু আরও অনেক কিছুই করে। ৯৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে পিএইচডি-র জন্য আবেদন জানিয়েছে। নিজের চেষ্টায় অত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছে। আমি এ সব দেখিনি। মেয়ের এক বন্ধু মেয়েকে পাঠিয়েছে। অন্বেষার প্রেমিক ড্যানিয়েল কিছুই বুঝতে পারছে না। কারণ, বেচারি বাংলা জানে না। আমার মেয়ের অবস্থাও তথৈবচ। আমাকেই সব লিঙ্ক পাঠিয়ে ইংরেজিতে লিখে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে! কেউ জানেন না, আমরা এ সবে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। এসব নিয়ে ‘খিল্লি’ করি। পাগলের মতো হাসতে থাকি।

প্রশ্ন: শুনেছি, ‘প্রমোটার বৌদি’ প্রথমে ধারাবাহিক হওয়ার কথা ছিল। আপনার অভিনয়জীবন শুরু এই মাধ্যমে। ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল...
স্বস্তিকা: অবশ্যই অভিনয়ে এসেছি ছোটপর্দার হাত ধরে। আপাতত সেখানে ফেরার ইচ্ছা নেই।

প্রশ্ন: ‘টেক্কা’য় সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘রিইউনিয়ন’ হল। দেবের সঙ্গে অভিনয় করলেন। জিতের সঙ্গে?
স্বস্তিকা: খুব ইচ্ছা, জিতের সঙ্গে আমায় কেউ বাছুন। ওর সঙ্গে আবার কাজ করি।

প্রশ্ন: স্বস্তিকা এখনও বহু পুরুষের ‘স্বপনচারিণী’। আপনাকে নিয়ে তাঁরা ‘ফ্যান্টাসাইজ়’ করেন। মনে হয় না, নিজের আর একটু যত্ন নিই। আগের মতো ‘পুতুল’ ‘পুতুল’ সৌন্দর্য রাখি?
স্বস্তিকা: (আবার হাসি) মনে হয় না। কারণ, তখন যে বয়েস ছিল, আমি তখনকার মতো ছিলাম। এখন আমার যা বয়েস, তাতে সে রকম করে সুন্দর আছি। মাঝে অস্ত্রোপচার হল। ওজন বেড়ে ৮০ কেজি। ওই অবস্থায় ‘প্রমোটার বৌদি’র শুটিং করেছি। তাড়াহুড়ো করে ওজন কমানোর জন্য ডায়েট, জিম করিনি। এখন আমি ৬৭ কেজি। ঝরিয়েছি তো! চিকিৎসক সাবধান করেছিলেন, দুমদাম করে কিছু করতে যাবেন না। আপনার শরীরে তার ছাপ পড়বে। (একটু থেমে) আর দেখুন, গত ২৫ বছরে পুরুষের ‘ফ্যান্টাসাইজ়’ করার দৃষ্টিভঙ্গিও তো বদলেছে! আমি আগের মতো থাকলে হবে?

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন