বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি মির্জা ফখরুলের
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩১ পিএম | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার সকালে বনানী সামরিক কবরাস্থান বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনা ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতি স্তম্ভের বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার জন্যে, একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিগত নির্বাচন এর মধ্য দিয়ে আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে সুসংগত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অতীতের মত একইভাবে তার যে মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং একই সঙ্গে স্বাধীন সমতাকে পুরোপুরিভাবে সংগত করা এবং এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের একটা নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের এবং শক্তিদেরকে আপনার আইনের আওতায় নিয়ে আসা তাদের শান্তিকে নিশ্চিত করা।
আমরা পিলখানা হত্যাকান্ডের সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং তাদের পরিবার পরিজনদের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাচ্ছি এবং এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আমরা তদন্ত তদন্ত দাবি করছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন হত্যাকাণ্ডে এই দিনটি আমাদের জাতির জন্যে অত্যন্ত লজ্জার কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। আমরা আজকে তাই এসেছিলাম জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আমাদের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এবং আমাদের দলের পক্ষ থেকে যারা সেদিন শহীদ হয়েছিলেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে।
তিনি বলেন, এই দিন থেকে আমরা সবচেয়ে কলঙ্কজনক এইজন্য মনে করি যে, এই দিনে চক্রান্ত হয়েছিল, যে প্রচেষ্টা হয়েছিল যে বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেই নিরাপত্তাকে ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল।
চৌকশ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে মনোবল এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের যে মনোবল সেটাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল।
এই সময়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্ণেল কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিদ্দিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াডন লীডার জাহিদ হোসেন, জাগপার চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান, বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকির আহমেদ ভুঁইয়া ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ নিহত হন। গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের স্মৃতি বেদিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা জানান। ফুল দেওয়ার পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট জানান। পরে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
এ সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, তিন বাহিনী প্রধানন যথাক্রমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পিলখানায় নিহত সেনাকর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য এবং নিকট আত্মীয়রাও ছিলেন বনানীর সামরিক কবরস্থানে।
ইউটি/টিএ