চাঁদপুরে দরপত্র জমা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৯ পিএম | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় হাট-বাজার ইজারার দরপত্র জমা দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে উপজেলার ছেঙ্গারচর পৌরসভার সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান মতলব উত্তর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান (৫৫), সায়েম (২০), সফিউল্লাহ (৩৫) সহ আরও দুইজন। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরপত্র জমা দেওয়া নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়; যা পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বিএনপির একপক্ষের অভিযোগ, দরপত্র জমা দিতে গেলে যুবদল নেতা আবু সাঈদ বেপারী ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জ্বল ফরাজীর পক্ষের লোকজন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধানসহ অন্যদের বাধা দেন। এ সময় উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
যুবদল নেতা আবু সাঈদ বেপারী বলেন, “দুপুর ১টা পর্যন্ত শিডিউল জমা দেওয়ার সময় ছিল। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কয়েকজন শিডিউল নিয়ে এলে তাদের বাধা দেই। এ সময় তারা আমাদের কর্মী সফিউল্লাহকে মারধর করেন।”
মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক সরকার ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধানের অভিযোগ, প্রশাসনের কারসাজির মাধ্যমে একপক্ষের দরপত্র গ্রহণ করা হয়। তাদের দাবি, টেন্ডার বাক্স উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় রাখার কথা থাকলেও কেবল পৌরসভায় রাখা হয়।
দরপত্র জমা দিতে গেলে যুবদল নেতা আবু সাঈদ ও উজ্জ্বল ফরাজীর সমর্থকেরা বাধা দেন এবং বদরুজ্জামানসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করেন বলে দাবি নুরুল হক সরকারের।
এ ঘটনার পর ছেঙ্গারচর পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা বাতিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির এক পক্ষের নেতারা।
পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ মণ্ডল বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “একপক্ষ অন্যপক্ষকে বাধা দেওয়ার বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী উপস্থিত ছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে তারা আসে। এখন শিডিউল জমা দিতে না পারলে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে পারেন তারা।”
ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার সাতটি স্থানের বিপরীতে সাতটি শিডিউল জমা পড়েছে বলে জানান ইউএনও।
ইউটি/টিএ