ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে আছে: নরেন্দ্র মোদি
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫৮ এএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়ে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে আছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে এবং ভবিষ্যতেও ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে থাকবে’।ভাষণে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই, ঐতিহাসিক সম্পর্ক, কৌশলগত অংশীদারত্ব ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিস্তৃত দিক তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে দেয়া ভাষণে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অত্যন্ত দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নেসেটে মোদির এই ভাষণ ছিল কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ এবং সফরের অন্যতম প্রধান আয়োজন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত ইসরায়েলের পাশে রয়েছে।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার তেল আবিবে পৌঁছানো মোদি তার বক্তব্যে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার সঙ্গে ভারতের ২৬/১১ মুম্বাই হামলার তুলনা টানেন। মোদি বলেন, ‘আমরা আপনাদের কষ্ট অনুভব করি, আপনাদের শোক ভাগাভাগি করে নিই। এই মুহূর্তে এবং ভবিষ্যতেও পূর্ণ বিশ্বাস ও দৃঢ়তার সঙ্গে ভারত ইসরায়েলের পাশে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ভূমির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও রক্ত ও আত্মত্যাগে লেখা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই অঞ্চলে চার হাজারের বেশি ভারতীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছিলেন। ১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বরে হাইফার অশ্বারোহী আক্রমণ সামরিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।’
মোদির আগে নেসেটে বক্তব্য দিতে গিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভারত ও ইসরায়েলের গভীর সম্পর্ক এবং অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি সিন্ধু সভ্যতা ও জর্ডান উপত্যকার প্রাচীন সভ্যতার মধ্যে মিলের কথা উল্লেখ করেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের এই জোট আমাদের প্রত্যেকের শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এটি শুধু সক্ষমতা নয়, কর্মকাণ্ডও বহুগুণ বৃদ্ধি করে।’
২০১৭ সালে মোদির প্রথম ইসরায়েল সফরের স্মৃতি তুলে ধরে নেতানিয়াহু বলেন, সে সময় তারা ভূমধ্যসাগরের তীরে খালি পায়ে হেঁটেছিলেন। মজা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের খ্রিস্টান বন্ধুদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি- কেউ কেউ বলেছিল আমরা নাকি পানির ওপর হেঁটেছিলাম। আসলে তা নয়। আমরা পানির ওপর হাঁটিনি, তবে এরপর থেকে আমরা অনেক ‘অলৌকিক’ কাজ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য দ্বিগুণ করেছি, সহযোগিতা তিনগুণ হয়েছে, আর পারস্পরিক বোঝাপড়া চারগুণ বেড়েছে। কিছু বিষয় এমন, যা ব্যাখ্যা করাও ঠিক হবে না।’
মোদি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফরের সময় আমরা আমাদের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করেছি। গত কয়েক বছরে বহু খাতে আমাদের সহযোগিতার পরিধি ও গভীরতা বেড়েছে। আমরা বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ জোরদার এবং যৌথ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এ সময় তিনি ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের কথাও উল্লেখ করেন। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন পরিবহন রুট, জ্বালানি পাইপলাইন ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে নয়াদিল্লি ও তেল আবিবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ কোটি সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার। ২০২২–২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
মোদির এবারের সফরে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
এমআর/টিএ