© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিদ্যুতে সিস্টেম লস ৩ শতাংশে নামাতে কাজ করছে সরকার : বিদ্যুৎমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
বিদ্যুতে সিস্টেম লস ৩ শতাংশে নামাতে কাজ করছে সরকার : বিদ্যুৎমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪০ পিএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লস কমিয়ে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।’ প্রাথমিকভাবে এটি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমার সময় বিদ্যুতে সিস্টেম লস ছিল ৬ শতাংশ।

১৯ বছর পরে এসে দেখছি এটি ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ১ শতাংশ সিস্টেম লস মানে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি। আমাদের লক্ষ্য এটি ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা। আপাতত ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে লোকসান অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সিস্টেম লস কমানো গেলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন কমবে। বিদ্যুতের দাম বাড়বে না—এ কথা আমি বলিনি। তবে আমি দাম বাড়াতে চাই না। যদি সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তাহলে পরিস্থিতি অনেকটা সহজ হবে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়েও সরকার ভাবছে, যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।’ একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার চাপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। লোকসান কমাতে না পারলে দায় বাড়বে, তখন আইএমএফ চাপ দিতে পারে বলেও তিনি বলেন।

জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একটি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছি। রাতারাতি সবকিছু ঠিক করা সম্ভব নয়। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে।’
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার আড়ালে জনগণের ওপর বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। হয়তো বলবেন, আগে ব্ল্যাকআউট ছিল, এখন আলো জ্বলছে। কিন্তু এই আলোর পেছনে জনগণের ওপর ঋণের পাহাড় রেখে যাওয়া হয়েছে। কষ্ট করে থাকা ভালো, কিন্তু ঋণের বোঝা বয়ে বেড়ানো ঠিক নয়।’

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী দাবি করেন, ‘একাধিক তদন্ত বা কমিশন গঠন করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ তিনি বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার চরিত্র হনন করা হয়েছে। ভুল সাংবাদিকতার কারণে আমার পরিবার ভুক্তভোগী হয়েছে।’

জ্বালানি খাতের আর্থিক সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ওপর অনেক ঋণের দায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও আমরা বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে রাষ্ট্র ঋণের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়।’

মন্ত্রী আরো জানান, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে জ্বালানি খাতের প্রতিটি স্তরে সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’


ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন