হাতিয়ায় সংঘর্ষ বন্ধ ও হান্নান মাসউদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এনসিপির স্মারকলিপি
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৬ পিএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী ভয়াবহ সহিংসতা, রাজনৈতিক সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রের মহড়া এবং নারী ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করে দলটির জেলা শাখা।
স্মারকলিপিতে এনসিপি নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে হাতিয়ায় ধারাবাহিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এনসিপি-র কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদের পূর্বনির্ধারিত সফরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ক্যাডাররা পরিকল্পিত হামলা চালায়।
প্রশাসনের উপস্থিতিতেই সংঘটিত এই হামলায় পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ দলের একাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে নারী নির্যাতন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা, লুটপাট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনসিপি প্রশাসনের কাছে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছে।
দাবিগুলো হলো:
হাতিয়ায় জননিরাপত্তা জোরদারে অবিলম্বে র্যাবের একটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
হাতিয়াসহ পুরো জেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা।
নারী ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারির নারী নির্যাতনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যতীত অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নোয়াখালী জেলা শাখার সদস্য সচিব কাজী মাঈন উদ্দীন তানভীর-এর নেতৃত্বে জেলা যুব শক্তি ও ছাত্র শক্তির একটি প্রতিনিধি দল বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাতিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, নির্বাচন পরবর্তী এই নৈরাজ্য দমন করা প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখালে পরিস্থিতি আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
ইউটি/টিএ