© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রোজায় কতবার ব্লাড সুগার মাপবেন?

শেয়ার করুন:
রোজায় কতবার ব্লাড সুগার মাপবেন?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১৫ এএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সেহরির পর থেকে ইফতার পর্যন্ত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করা ওঠানামা করতেই পারে। কেউ বুঝতে পারেন, কেউ আবার কোনো লক্ষণ ছাড়াই বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে যান। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন - অনুমানের ওপর নয়, মাপার ওপর ভরসা করুন।


আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, রোজার সময় নিয়মিত সুগার মনিটরিং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (সুগার কমে যাওয়া) বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া (সুগার বেড়ে যাওয়া) দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

রোজা ভাঙে কি?
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের রমজান গাইডলাইন অনুযায়ী, আঙুলে সূচ ফোটিয়ে রক্ত পরীক্ষা করলে রোজা ভাঙে না। তাই সুগার মাপতে ভয় পাওয়ার কারণ নেই।

সাধারণ ঝুঁকির রোগীদের জন্য সুগার মাপার নিয়ম
যাদের ডায়াবেটিস তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে, তাদের দিনে অন্তত ২–৩ বার সুগার মাপা উচিত -
১. সেহরির আগে বা পরে
২. দুপুর বা বিকেলের দিকে একবার
৩. ইফতারের ২ ঘণ্টা পর একবার

এই তিনবার মাপলে আপনি রোজা অবস্থায় রক্তে শর্করার ওঠা-নামা ট্র্যাক করতে পারবেন। অস্বাভাবিক মাত্রা দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন নিয়মিত মনিটরিংকে নিরাপদ রোজার প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের জন্য
টাইপ–১ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন ব্যবহারকারী বা যাদের সুগার অনিয়ন্ত্রিত, তাদের ক্ষেত্রে দিনে ৪–৫ বার বা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী আরও বেশি বার মাপা প্রয়োজন হতে পারে।

সুগার কত দেখলে সতর্ক হবেন?
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী - রক্তে শর্করা ৩.৯ মিলিমোল/লিটার বা তার নিচে নেমে গেলে, অথবা ১৬.৭ মিলিমোল/লিটার বা তার ওপরে গেলে রোজা ভেঙে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

এছাড়া মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা বা ঝাপসা দেখা - এসব লক্ষণ দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা না করে সঙ্গে সঙ্গে সুগার পরীক্ষা করুন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, রোজায় ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা কোনো বিলাসিতা নয় - এটি নিরাপত্তার একটি অংশ। নিয়মিত মনিটরিং করলে রোজা পালনও হয়, ঝুঁকিও কমে।

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন