‘অপারেশন গজব লিল হক’ অর্থ কী? কেন শুরু করল পাকিস্তান?
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪১ পিএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সীমান্তে মাসের পর মাস উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান। ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে শুক্রবার ভোররাতে এই অভিযান শুরু হয় বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ একে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে ‘খোলা যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের খবরে বলা হয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে ‘উসকানিমূলক গোলাগুলি’র জবাব দিতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সরকার।
দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, আফগান তালেবান খাইবার পাখতুনখোয়ার চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্দ, কুররম ও বাজাউর সেক্টরে একাধিক স্থানে গুলি চালালে তার প্রেক্ষিতেই ‘গজব লিল হক’ (অর্থাৎ ‘ন্যায়ের প্রতিশোধ’ বা ‘ন্যায়ের ক্রোধ’) শুরু করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে তালেবানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তান বিমানবাহিনী নাঙ্গারহার প্রদেশে একটি গোলাবারুদ ভাণ্ডারও ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটির দুই নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে ১৩৩ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, “ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তালেবান দেশটির জনগণের স্বার্থে কাজ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তার অভিযোগ, পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি ও মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে সব ধরনের চেষ্টা করেছে।তবে এখন ‘ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গেছে’।”
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, পাকিস্তানই আফগানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং আফগান সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে।
দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ শুরু হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সে দিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
ইতোমধ্যে ইরান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।
টিজে/এসএন