কমিউনিস্টদের নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করলেন গীতিকার পীযূষ মিশ্র
ছবি: সংগৃহীত
১০:২৮ এএম | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কলকাতায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে এসে আবারও অকপট পীযূষ মিশ্র। অভিনেতা, গায়ক, কবি, গীতিকার সব পরিচয়ের আড়ালে তিনি বরাবরই স্পষ্টভাষী। শহরটিকে তিনি ভালবাসার শহর বলেই মানেন। তাঁর কথায়, এ এমন এক জায়গা যেখানে সাহিত্য, সিনেমা আর রাজনৈতিক আন্দোলন মিলেমিশে তৈরি করেছে উর্বর সংস্কৃতির মাটি।
নিজের স্বভাব নিয়ে প্রচলিত ধারণা ভেঙে তিনি জানালেন, আগের মতো আর রাগ নেই। গত পনেরো বছরে তিনি অনেকটাই শান্ত হয়েছেন। কলকাতার দর্শক প্রসঙ্গে বললেন, এই শহরের মানুষ সচেতন, শিক্ষিত। ভাল লাগলে প্রশংসা করবেন, না লাগলে নির্মম সমালোচনা। তাই এখানে গান গাইতে হলে দায়িত্ববোধ আরও বেশি।

গানের প্রসঙ্গে উঠে আসে ‘আরম্ভ হে প্রচণ্ড’, ‘ঘর’, ‘হুসনা’। তাঁর স্বীকারোক্তি, ‘হুসনা’ এখন আর গাইতে ভাল লাগে না, সেই অনুভূতি আর বেঁচে নেই। নিজেকে তিনি প্রথমে অভিনেতা হিসেবেই দেখতে চান। গায়ক হিসেবে খ্যাতি এলেও নিয়মিত সাধনা না থাকায় সে দাবি জোর দিয়ে করেন না। তবে গীতিকার হিসেবে আত্মবিশ্বাসী তিনি।
কবিতা ও গানে সমাজ, ইতিহাস, রাজনীতির উপস্থিতি থাকা উচিত এই মতেই অনড় পীযূষ। তাঁর মতে, রাজনীতি ছাড়া কোনও সৃষ্টি সম্ভব নয়। সৃষ্টি মানেই এক ধরনের অবস্থান। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ঋত্বিক ঘটক ও সত্যজিৎ রায় এর কাজের কথা। তাঁদের ছবিতেও নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও খোলামেলা মন্তব্য করেন পীযূষ। তাঁর বক্তব্য, বামপন্থার প্রয়োজন আছে, বিদ্রোহী মানসিকতার প্রয়োজন আছে। কিন্তু কমিউনিস্টদের বড় সমস্যা, নিজেদের ভুল স্বীকার করতে চান না, বরং অন্যের ত্রুটি ধরেন। সময়ের সঙ্গে নমনীয় হতে না পারাই তাঁদের প্রভাব কমার অন্যতম কারণ বলেও মত তাঁর।
বন্ধু অনুরাগ কাশ্যপ এর প্রসঙ্গ উঠতেই বলেন, ভাল কাজ হচ্ছে, হতাশ হওয়ার কারণ নেই। তবে অকারণ বিপ্লবী ভঙ্গি অনেক সময় কাজের ক্ষতি করে। প্রতিবাদ করতেই হবে, কিন্তু বুঝেশুনে।
থিয়েটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব আশাবাদী নন তিনি। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া বড় পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মত। তবে থিয়েটার কখনও মরবে না এই বিশ্বাস তাঁর অটুট।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নির্ভার পীযূষ। সংসার, স্ত্রী, দুই সন্তান এই পরিসরেই এখন শান্তি খুঁজে পান। কলকাতায় এলে রসগোল্লা নিয়ে ফেরেন, আর নিজে ভালবাসেন মাছভাত। জীবনে আক্ষেপ ছিল, এখন আর নেই সব কিছুই সময়মতো পেয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।
পিআর/টিএ