ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘খুশি নন’ ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৪ পিএম | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে চান না, তবে ‘কখনো কখনো করতে হয়’।
তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সর্বশেষ যে আলোচনা হয়েছে, তাতে ইরানের ভূমিকায় ‘খুশি নন’ জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে হামলা হবে কিনা সে বিষয়ে তিনি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
“আমাদের যা দরকার তা দিতে তারা রাজি হয়নি, এতে আমি অখুশি, আমি উৎফুল্ল হতে পারছি না,” বৃহস্পতিবার কোনো চুক্তি ছাড়াই জেনিভা আলোচনা শেষ হওয়ার পর প্রথম মন্তব্যে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে চান না, তবে ‘কখনো কখনো করতে হয়’।
এদিকে জেনিভায় তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনা শেষ হওয়ার পর ইরানে শিগগিরই মার্কিন হামলা হতে পারে শঙ্কায় অনেক দেশ এরই মধ্যে তাদের নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব ওই অঞ্চল ছাড়ার নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
যুক্তরাজ্য ‘সাময়িক সময়ের জন্য’ তাদের তেহরান দূতাবাস থেকে কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে; ভ্রমণ নির্দেশিকায় ‘জরুরি কাজ ছাড়া’ ইসরায়েল ভ্রমণ না করতেও নাগরিকদের অনুরোধ করেছে তারা।
চীন, ভারত ও কানাডা তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়তে বলেছে। জার্মানি ইসরায়েল ভ্রমণ না করতে ‘জরুরি ভিত্তিতে’ পরামর্শ দিয়েছে; ফ্রান্সের এ নির্দেশনা আগেই ছিল, তারা আবারও সেটি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রও তাদের নাগরিকদের ‘অবিলম্বে’ ইরান ছাড়ার তাগাদা দিয়েছে। ওয়াশিংটন তাদের ইসরায়েল দূতাবাসের জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বলেছে, তারা চাইলে ‘বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকা অবস্থায়’ ইসরায়েল ছাড়তে পারে।
তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানে হামলার হুমকি লাগাতার দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তার নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানবাহী রণতরী, কয়েকশ যুদ্ধবিমান, জাহাজসহ বিপুল সৈন্য সমাবেশও ঘটিয়েছে। ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ‘আগ্রাসনের’ পর ওই অঞ্চলে এত মার্কিন সেনা ও সরঞ্জাম আর দেখা যায়নি।
ইরান বলেছে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েল তাদের ‘বৈধ নিশানায়’ পরিণত হবে।
ওয়াশিংটন ও তার পশ্চিমা মিত্রদের ধারণা, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূটি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ এবং কেবল বেসামরিক পর্যায়ে ব্যবহারের জন্যই তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, বোমা বানাতে নয়।
“আমি বলেছি কোনো সমৃদ্ধকরণ হবে না, ওই সমৃদ্ধকরণ বেসামরিক নয় বলেই আমার মনে হয়,” শুক্রবার সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তার কিছুক্ষণ আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বলেছিলেন, তেহরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কখনোই মজুদ না করার প্রস্তাবে রাজি হয়েছে, যা ‘সমৃদ্ধকরণ বিষয়ক তর্ক বিতর্ককে কম প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে’।
“যদি আপনি সমৃদ্ধ ওই উপকরণ মজুদ না করতে পারেন, তাহলে প্রকৃত অর্থে বোমা বানানোর কোনো সম্ভাবনাই আপনার নেই,” সিবিএস নিউজকে এমনটাই বলেছেন জেনিভায় তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনায় মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করা আলবুসাইদি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার তিনি জানালেও যুদ্ধ এড়াতে সক্ষম দুই পক্ষের মধ্যে এমন চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও রয়েই গেছে।
জেনিভায় কোনো চুক্তি না হলেও দিনকয়েকের মধ্যেই দুই পক্ষ ফের আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান ওমানের এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, জেনিভায় আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে, কিছু বিষয়ে সমঝোতা হলেও অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েই গেছে।
এর মধ্যেই সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। সফরে রুবিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরানসহ ‘নানান আঞ্চলিক অগ্রাধিকার’ নিয়ে কথা বলবেন, বলেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার রুবিও জানিয়েছেন, তিনি ইরানকে ‘রাষ্ট্রীয় মদদে বেআইনি আটকের’ দেশের তকমা দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ ক্ষমতা দেওয়া হয়, এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চাইলে বেআইনিভাবে নাগরিকদের আটকে রাখা দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ নানান ব্যবস্থা নিতে পারবে।
“ইরানে থাকা মার্কিনিদের দ্রুত দেশটি ছাড়ার নির্দেশ পুনর্ব্যক্ত করছি আমরা,” ইরানকে নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়ে বলেন রুবিও।
এসকে/টিএ