© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাংলাদেশ জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:০৫ এএম | ০১ মার্চ, ২০২৬
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে। আমরা জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও একই দাবির পক্ষে ছিলেন।


শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সৌদি আরব সফর শেষে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা চাই ১৯৬৭ সালের আগে যে বর্ডার ছিল সেই অনুসারে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠিত হোক। নতুন করে আমাদের মতো করে বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বোঝানোর চেষ্টা করছি। এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়।

খ‌লিলুর রহমান ব‌লেন, ওআইসি বৈঠকে আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে ভূমি ক্রয় সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ইসরাইলের আইনের নিন্দা জানিয়েছি। আমরা বলেছি ভূমি নিয়ে তাদের পদক্ষেপ স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, এ সফরে আমরা ওআইসির একটা বিশেষ এক্সিকিউটিভ কমিটি মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছি, যার প্রধান উপযোগী বিষয় ছিল সম্প্রতি ইসরাইল প্যালেস্টিনিয়ান ভূমি দখলের নতুন পাঁয়তারা করেছে। নতুন আইন প্রণয়ন করেছে অবৈধভাবে ভূমি দখলের। সেই বিষয়ে আমাদের জোরালো প্রতিবাদ এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এ দুটো বিষয়ের উপরে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

এছাড়াও এই সফরের সময় আমি এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের প্রধান প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করেছি। যার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, প্যালেস্টাইন, পাকিস্তান এবং গাম্বিয়া ছিল। তারা সকলেই গত নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয় লাভ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটা দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যাপক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এছাড়াও আমরা দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছি এবং এসব দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক জোরদারের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। সেই সাথে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের যে প্রার্থিতা সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। প্রত্যেকটি দেশ আমাদেরকে বিপুল সমর্থন দিয়েছে। আমাদের জন্য জাতিসংঘে কাজ করবার জন্য প্রতিশ্রুতি দান করেছেন তারা।

ফিলিস্তিনের উপরে বাংলাদেশের যে পজিশন এটা দ্ব্যর্থহীন; আমরা সম্পূর্ণভাবে তাদের পক্ষে এবং আমরা চাই যে ১৯৬৭ সালের আগের বর্ডার অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠিত হোক। প্যালেস্টিনিয়ানদের যে ইনহ্যালিবল রাইটস টু স্টেটহুড, আছে সেটার ব্যাপারে আমাদের শুরু থেকে যে দৃঢ় অবস্থান ছিল তা বজায় থাকবে বলেও জানান তিনি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ বিষয়ে ব্যাপক এবং বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন যা আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে-েএ কথা জানিয়ে আবারও বলেন, প্যালেস্টাইনের প্রশ্নে আমাদের অবস্থান দ্ব্যর্থহীন এবং কোনোভাবে কোনো পরিবর্তন হবে না।

সাংবাদিবদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শুধু পাকিস্তান নয়, আমাদের বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং আমরা মালদ্বীপের সঙ্গেও আলাপ করেছি যে, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এই দেশগুলোর সঙ্গে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায় বলেও জানান তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার জন্য ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার আশ্বাস জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ওআইসিভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা বলেছেন, তারা শুধু বাংলাদেশকে সমর্থনই দেবে না, বরং তারা বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে প্রচারণা চালাবেন।

তিনি বলেন, প্রতিবছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়। বর্তমানে চালু থাকা ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি জার্মানি যারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মেম্বার। আগামী বছর এটি এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পাওনা। যেখানে প্রথম প্রার্থিতা ডিক্লেয়ার করে সাইপ্রাস। কিন্তু সাইপ্রাস হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একজন পূর্ণ সদস্য এবং জাতিসংঘের ইকোনমিক কমিশন অফ ইউরোপের তারা সদস্য। তারা এশিয়ান প্যাসিফিকের সদস্য নয়। এজন্য গত বছর আমাদের বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্র বলেছিলেন যে, এশিয়ার স্বার্থ রক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রার্থিতা দিতে পারে।

আমরা দুটো বিষয় বিবেচনা করেছি: প্রথমত, ৪০ বছর পর আবার আমরা এ পদে নির্বাচিত হওয়ার একটা সুযোগ পাচ্ছি এবং দ্বিতীয়ত, এই অঞ্চলের দেশ হিসেবে এই অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের একটা প্রধান দায়িত্ব। এই দুটো বিবেচনায় আমরা ইন্টারিম গভর্নমেন্টের সময় প্রার্থিতা দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছিলাম। এর আগে জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে আমাদের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী আমাদের ক্যান্ডিডেট ছিলেন এবং সেই রীতি অনুযায়ী আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা (সাবেক) তৌহিদ হোসেনকে প্রার্থিতার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেপ্টেম্বর মাসে পরিষ্কার হয় যে, প্যালেস্টাইন তাদের প্রার্থিতা বজায় রাখবে। তখন আমরা আমাদের ক্যান্ডিডেচার সাসপেনশনে রাখি। কারণ আমাদের আশঙ্কা ছিল প্যালেস্টাইন জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য না হওয়ায়, তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারে বলেও জানান তিনি।

আমাদের অনুমান অনুযায়ী কয়েকদিন আগে প্যালেস্টাইন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে এবং আমাদের প্রার্থিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল হয়েছে এ কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে সরকার বদল হওয়ায় প্রার্থী বদল হয়েছে এবং এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সেখানে আমার নাম এসেছে। আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সাইপ্রাস তারা বছরজুড়ে প্রচার করেছে আর আমাদের হাতে সময় মাত্র তিন মাস বা তার চেয়ে কম সময় আছে। এই অল্প সময়ে নিশ্চিত জয়ের জন্য আমরা ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের কাছ থেকে অকুণ্ঠ ও জোরালো সমর্থন পেয়েছি। তারা বলেছেন তারা শুধু আমাদের সমর্থনই করবেন না বরং আমাদের প্রার্থিতার পক্ষে সারা বিশ্বে প্রচারণা চালাবেন জানান মন্ত্রী।

এছাড়াও আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমান বলেছেন, যুদ্ধ কখনও কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। দু'দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে ‘খুবই দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

 টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন